তৃণমূলের দুর্গে ফাটল ধরাতে বিজেপির ‘অপারেশন ১০০’! এই আসনগুলি হারলেই কি নবান্ন হাতছাড়া?

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল এবং সাংগঠনিক রদবদলের পর অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন বিজেপি এবার কেবল স্লোগান নয়, বরং নিরেট ‘পাটিগণিতের’ ওপর ভিত্তি করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। বিজেপির অভ্যন্তরীণ ব্লু-প্রিন্ট বা ‘মাস্টারপ্ল্যান’ অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৬২টি ‘ক্যাটাগরি এ’ আসনে তারা জয়ের প্রবল সম্ভাবনা দেখছে। তবে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের একাধিপত্যে ধস নামাতে বিজেপি বিশেষ কিছু কৌশলগত ‘সুইং সিট’ বা দোদুল্যমান আসনের ওপর নজর দিয়েছে।
বিজেপির এই রণকৌশলের মূলে রয়েছে সেই ৫৭টি আসন, যেখানে ২০২১ সালের নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান ছিল ৮,০০০ ভোটের কম। পরিসংখ্যান বলছে, এর মধ্যে ১৯টি আসনে ব্যবধান ছিল ৩,০০০-এরও নিচে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন (ব্যবধান মাত্র ৬২৩ ভোট), বর্ধমানের কুলটি (৬৭৯ ভোট) এবং ঘাটালের মতো আসনগুলো বিজেপির জন্য তুরুপের তাস হতে পারে। এই আসনগুলোতে সামান্য ভোট শতাংশের এদিক-ওদিক হলেই ক্ষমতার সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে। এছাড়া ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের ট্রেন্ড অনুযায়ী, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর এবং মন্ত্রী শশী পাঁজার কেন্দ্র শ্যামপুকুরে শাসকদলের লিড আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, যা গেরুয়া শিবিরকে বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে।
বিজেপি এবার ‘কলিজিয়াম মডেল’ অনুসরণ করে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতাদের আঞ্চলিক দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো মতুয়া ভোট ব্যাংক (প্রায় ৩০টি আসন) এবং উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স এলাকা। সিএএ (CAA) ইস্যুকে হাতিয়ার করে নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং কোচবিহারের আসনগুলোতে থাবা বসাতে চায় তারা। পাশাপাশি রেশন ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ এবং ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৮.৪ লক্ষ নাম বাদ যাওয়াকে প্রধান হাতিয়ার করে জঙ্গলমহল ও শহরাঞ্চলে তৃণমূলের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কৌশলগত আসনগুলোতে বিজেপি যদি ১০০-র গণ্ডি টপকাতে পারে, তবে নবান্নের মসনদ রক্ষা করা তৃণমূলের পক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।