ভোটার তালিকায় নজিরবিহীন কোপ! লক্ষ লক্ষ মহিলার নাম উধাও, ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব মমতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এবার এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত এক দশকে এই প্রথমবার রাজ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যায় নাটকীয় পতন দেখা গিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে রাজ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ৫৯ লক্ষ, যা ২০২৪ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ৩ কোটি ৭৩ লক্ষ। কিন্তু সাম্প্রতিক তালিকায় সেই সংখ্যা একধাক্কায় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ১৬ লক্ষে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি আঙুল তুলেছেন ‘SIR’ (Special Investigation Report) প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের দিকে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার অছিলায় পরিকল্পিতভাবে মহিলাদের নিশানা করা হয়েছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিয়ের পর মহিলাদের ঠিকানা বা পদবি পরিবর্তন হওয়া একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক সামাজিক প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই অজুহাতে ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এর নামে লক্ষ লক্ষ মহিলার নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। মমতার দাবি, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যের নারীশক্তিকে কোণঠাঁসা করতেই বিজেপি ও কমিশন এই গভীর ষড়যন্ত্র কষেছে।
ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার চাঁদপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭৩ নম্বর বুথের একটি রিপোর্ট। সেখানে ১৮৬ জন বিচারধীনের মধ্যে ১৮৩ জনেরই নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যাদের নাম কাটা গিয়েছে তাদের অধিকাংশেই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। গতকাল তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মাত্র ২ জনের আবেদন এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী মতুয়া পরিবারের সদস্যরা এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের দাবি, তাদের কাছে ১৯৮৪ সালের বর্ডার স্লিপ এবং ১৯৮৮ সালের ভোটার তালিকার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন নাম বাদ দেওয়া হলো? তারা সাফ জানিয়েছেন, তারা এদেশেরই নাগরিক এবং কোথাও যাবেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের মাথাচারা দিয়ে উঠেছে নাগরিকত্ব ইস্যু। রাজনৈতিক মহলের মতে, মহিলা ও মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করেই কি এই পদক্ষেপ? এই প্রশ্নই এখন বাংলার রাজনীতির অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে।