চাকরি ছাড়লেই ২ দিনের মধ্যে হাতে আসবে সব টাকা! ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হচ্ছে কেন্দ্রের নতুন শ্রমবিধি

আগামী ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে আপনার মাসিক বেতনের কাঠামো বা ‘পে-স্লিপ’ আমূল বদলে যেতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া শ্রমবিধি এবং কর আইনের পরিবর্তনের ফলে বেসরকারি ও সরকারি—উভয় ক্ষেত্রের কর্মীদের ওপরই এর বড় প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে আপনার হাতে পাওয়া বেতনের অঙ্ক (Take-home Salary) এবং ভবিষ্যতের সঞ্চয়ের (EPF & Gratuity) হিসেবে আসবে ব্যাপক রদবদল।
বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন: এতদিন অনেক সংস্থা ট্যাক্স বাঁচাতে বা খরচ কমাতে বেসিক স্যালারি (Basic Salary) কম রাখত। কিন্তু নয়া নিয়ম অনুযায়ী, আপনার বেসিক পে, ডিএ এবং রিটেনিং অ্যালাওয়্যান্সের মোট অঙ্ক আপনার মোট বেতনের (CTC) অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে। এর ফলে সংস্থাগুলিকে বেসিক স্যালারি বাড়াতে হবে। বেসিক বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই আপনার পিএফ (EPF) এবং গ্র্যাচুইটির জন্য কাটার অঙ্কও বাড়বে। অর্থাৎ, মাসের শেষে হাতে পাওয়া টাকার পরিমাণ কিছুটা কমলেও, আপনার ভবিষ্যতের সঞ্চয় বা রিটায়ারমেন্ট ফান্ড অনেক বেশি মজবুত হবে।
চাকরি ছাড়লে দ্রুত পেমেন্ট: চাকরিজীবীদের জন্য একটি বড় সুখবর হলো বকেয়া টাকা পাওয়ার সময়সীমা। এতদিন চাকরি ছাড়ার পর ফুল-অ্যান্ড-ফাইনাল সেটেলমেন্টের জন্য ৩০ থেকে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন বিধি অনুযায়ী, কাজের শেষ দিনের মাত্র ২ দিনের মধ্যেই কর্মীকে তাঁর সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। আপনি ইস্তফা দিন বা আপনাকে ছাঁটাই করা হোক—নিয়ম সবার জন্য এক। তবে গ্র্যাচুইটির টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের সময়সীমা বজায় থাকছে।
ট্যাক্স ও বিদেশের খরচ: আয়করের হারে বড় কোনো বদল না এলেও, করের কাঠামো এবং ভাষা অনেক সহজ করা হয়েছে। তবে যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ভ্রমণের জন্য টাকা পাঠান (Remittance), তাদের জন্য স্বস্তির খবর। টিসিএস (TCS)-এর হার কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে। মোটের ওপর ১ এপ্রিল থেকে আপনার আর্থিক জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।