তেলের ভাণ্ডার কবজায় নিতেই কি ট্রাম্পের এই চাল? পারস্য উপসাগরে হাজার হাজার কমান্ডো পাঠাল পেন্টাগন

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে এল যুদ্ধের অন্তিম প্রহর। ইরানের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি ‘গ্রাউন্ড অপারেশন’ বা স্থলপথে সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ USS Tripoli-তে চড়ে প্রায় ২৫০০ নৌসেনা ইতিমধ্যেই অপারেশনাল জোনে পৌঁছে গিয়েছেন। সব মিলিয়ে ৩৫০০-র বেশি দুর্ধর্ষ মার্কিন সেনাকে ইরানের দোরগোড়ায় মোতায়েন করা হচ্ছে।

পেন্টাগন সূত্রের খবর, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ আইল্যান্ড (Kharg Island)। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, কারণ দেশটির ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের বন্দর থেকেই বিদেশে রপ্তানি হয়। গত কয়েকদিন আগেই এই দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। এবার দ্বীপটি সরাসরি নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া ট্রাম্প প্রশাসন। USS Tripoli জাহাজটি শুধুমাত্র সেনা বহন করতেই নয়, বরং F-35 এবং Osprey-র মতো বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান পরিচালনা করতেও সক্ষম। সান দিয়েগো থেকে আরও যুদ্ধজাহাজ পশ্চিম এশিয়ার দিকে রওনা দিয়েছে।

তবে এই গ্রাউন্ড অপারেশন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মিলেছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। একদিকে যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান যদি পিছু না হটে তবে তাদের জন্য ‘নরকযন্ত্রণা’ অপেক্ষা করছে। ট্রাম্প এই দ্বীপটিকে আমেরিকার ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদি আমেরিকা খার্গ দখল করে নেয়, তবে ইরানের তেল অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে পড়বে। এখন দেখার, তেহরান এই চরম উত্তেজনার মুখে মাথা নত করে কি না।