হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! ভারতের অস্বস্তি বাড়িয়ে পাকিস্তানকে বিশেষ সুবিধা তেহরানের?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হঠাৎই বড়সড় কূটনৈতিক চমক। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিজেদের ২০টি জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের কাছ থেকে সবুজ সংকেত আদায় করে নিল পাকিস্তান। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এই বড় ঘোষণাটি করেছেন। যেখানে ভারতসহ বিশ্বের একাধিক দেশের জাহাজ হরমুজের উত্তাল পরিস্থিতিতে আটকে রয়েছে, সেখানে পাকিস্তানের জন্য ইরানের এই ‘বিশেষ ছাড়’ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইশাক দার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, ইরান সরকার পাকিস্তানের পতাকা লাগানো ২০টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিদিন পাকিস্তানের দুটি করে জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে পারবে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে ‘শান্তির বার্তাবাহক’ এবং পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই ঘোষণার গভীরে অন্য সমীকরণ দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে ইশাক দারের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ট্যাগ তালিকা। তিনি সেখানে কেবল ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকেই ট্যাগ করেননি, বরং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে পাকিস্তান কি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই প্রশ্নটি এখন আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো হচ্ছে।
এদিকে, পাকিস্তানের এই সাফল্যে ভারতের অস্বস্তি বাড়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও হরমুজ প্রণালীর উল্টো দিকে ভারতের প্রায় ২০টি এলপিজি (LPG) বহনকারী জাহাজ আটকে রয়েছে। ‘Jag Vikram’, ‘Green Asha’-র মতো বড় জাহাজগুলো সেখানে আটকা পড়ায় ভারতের জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান যদিও ভারত, চীন, রাশিয়া ও ইরাককে ‘বন্ধুদেশ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে দেওয়া এই বাড়তি সুবিধা ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।