প্রোটোকল ভেঙে মোদি-ট্রাম্পের সংলাপে ‘বেপরোয়া’ মাস্ক? নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবিতে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয়েছে এক মাস অতিক্রান্ত। এই আবহে গত মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যেকার এক টেলিফোনিক কথোপকথন ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আন্তর্জাতিক বিতর্ক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ওই একান্ত আলাপচারিতার মাঝেই আচমকা যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। শনিবার এই জল্পনা সম্পূর্ণ খারিজ করে কড়া প্রতিক্রিয়া দিল নয়াদিল্লি।

গত ২৪ মার্চ মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি ছিল, কোনো রকম কূটনৈতিক প্রোটোকল না মেনেই সেই অত্যন্ত সংবেদনশীল ফোনালাপে অংশ নেন মাস্ক। যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে— কোনো সরকারি পদে না থেকেও একজন সাধারণ নাগরিক কীভাবে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সামরিক ও কৌশলগত আলোচনায় ঢুকে পড়লেন?

শনিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এই বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়ে জানান, “আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি দেখেছি। ২৪ মার্চের ওই টেলিফোনিক কথোপকথনটি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেখানে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল না।” বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ওই ফোনালাপটি ছিল মূলত পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার ফলপ্রসূ মতবিনিময়ের একটি অংশ। যেখানে ভারত শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে তার পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতার মধ্যে কথা হলো। ট্রাম্প নিজেই মোদিকে ফোন করেছিলেন বলে জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস বা ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মাস্কের উপস্থিতির কোনো উল্লেখ না থাকলেও নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই ‘বিস্ফোরক’ দাবি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। তবে নয়াদিল্লির এই সাফাইয়ের পর আপাতত সেই বিতর্কে জল পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।