হাওড়া-হুগলির ঘাটে ঘাটে ত্রাস! অন্ধকার রাতে জলপথে চলত অপারেশন, কীভাবে ধরা পড়ল ‘জলদস্যু’ চোরেরা?

হাওড়া ও হুগলির গঙ্গা উপকূলবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এক রহস্যময় চুরির কিনারা করল পুলিশ। রাতের অন্ধকারে নৌকা নিয়ে এসে গঙ্গার ধারের মন্দিরগুলোয় হানা দেওয়া এক দুর্ধর্ষ চোর চক্রের হদিস মিলেছে। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যাদের মধ্যে রয়েছে মহম্মদ রনিশ সর্দার, মহম্মদ তাজমুল, মহম্মদ জহিদুল এবং শেখ নুর হাসান। শুক্রবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
কীভাবে চলত এই ‘অপারেশন নৌকা’? ধৃতদের চুরির ধরন দেখে রীতিমতো অবাক তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই যুবকরা রাতের অন্ধকারে একটি ছোট নৌকা নিয়ে গঙ্গায় বেরিয়ে পড়ত। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন সেইসব মন্দির, যেখানে রাতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি কম। বিগ্রহের সোনার গয়না, রুপোর অলঙ্কার, প্রণামী বাক্সের টাকা থেকে শুরু করে পুজোর পিতল ও কাঁসার বাসন— কিছুই বাদ যেত না তাদের হাত থেকে। কাজ সেরে ফের নৌকায় চড়ে গঙ্গার অন্ধকারেই মিলিয়ে যেত এই চোরেরা।
তদন্তে নেমে মিলল সিসিটিভি ফুটেজ: এলাকার বেশ কয়েকটি মন্দিরে পরপর একই কায়দায় চুরি হওয়ায় মন্দির কমিটিগুলোর সন্দেহ দানা বাঁধে। কয়েকটি জায়গার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গঙ্গার ঘাট দিয়ে নৌকায় করে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তি যাতায়াত করছে। এই সূত্র ধরেই হাওড়া ও হুগলি পুলিশ যৌথ তদন্তে নামে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হানা দিয়ে শেষমেশ এই চারজনকে পাকড়াও করা হয়। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু চুরি যাওয়া সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।
চক্রের শিকড় কি আরও গভীরে? প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। এক এক রাতে তারা দুই থেকে তিনটি মন্দিরেও সাফাই অভিযান চালাত। চুরির মাল বিক্রি করে পাওয়া টাকায় চলত তাদের বিলাসবহুল জীবন। পুলিশ মনে করছে, এই চক্রের জাল আরও অনেক দূর বিস্তৃত। এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত রয়েছে এবং চুরি করা গয়না কোথায় বিক্রি করা হত, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে প্রশাসন।