এস-৪০০ যা পারেনি, তা করে দেখাবে টুঙ্গুস্কা! আকাশপথে নিশানায় জল ঢালতে ভারতের নয়া ‘সুরক্ষাকবচ’

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক চার দিনের সংঘাত বদলে দিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধের সমীকরণ। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে পারলেও, কিছু ড্রোন জনবসতি এলাকায় ঢুকে পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থায় বড়সড় বিনিয়োগ করতে চলেছে ভারত। ড্রোন ও নিচু দিয়ে উড়ে আসা মিসাইল ধ্বংস করতে রাশিয়া থেকে ৪৪৫ কোটি টাকায় কেনা হচ্ছে অত্যাধুনিক টুঙ্গুস্কা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Tunguska Air Defence System)

টুঙ্গুস্কা কেন ড্রোনের যম? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এস-৪০০-এর মতো দামী ব্যবস্থা বড় লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে ওস্তাদ হলেও, ছোট ও ধীরগতির ড্রোনের ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যর্থ হয়। টুঙ্গুস্কা হল একাধারে মিসাইল এবং ৩০ মিমি জোড়া কামানে সজ্জিত একটি ব্যবস্থা। এর বিশেষত্ব হল:

  • নিচু উড়ানের যম: রাডারের নজর এড়িয়ে যে ড্রোনগুলো নিচু দিয়ে ওড়ে, সেগুলোকে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে পারে টুঙ্গুস্কা।

  • সচল প্রতিরক্ষা: এটি একটি সাঁজোয়া যানের ওপর বসানো থাকে, ফলে যুদ্ধের ময়দানে ট্যাংক বা এস-৪০০ লঞ্চারের সাথে সাথে এটিও যাতায়াত করে সুরক্ষা দিতে পারে।

  • সাশ্রয়ী ও কার্যকর: ইরানের সস্তা শাহেদ ড্রোন যেমন আমেরিকার দামী ‘থাড’ ব্যবস্থাকে নাকানিচোবানি খাইয়েছিল, টুঙ্গুস্কা সেই ধরণের ‘ঝাঁকবদ্ধ ড্রোন’ (Swarm Drones) রুখতে সবথেকে কার্যকর।

আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ভারত ১৯৯০ সাল থেকেই এই ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও, বর্তমান ৪৪৫ কোটির চুক্তির মাধ্যমে এটিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে মুড়ে ফেলা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় নতুন ধরণের সেন্সর ও ইন্টারসেপ্টর মিসাইল যুক্ত করা হবে। পাকিস্তান ও চিনের ক্রমবর্ধমান ড্রোন হুমকির মোকাবিলায় টুঙ্গুস্কা ভারতের আকাশসীমার জন্য এক দুর্ভেদ্য দেওয়াল হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।