মোদি-ট্রাম্পের ফোনালাপে কি আড়ি পেতেছিলেন মাস্ক? জল্পনা ওড়ালো বিদেশ মন্ত্রক, ট্রাম্পের নিশানায় হরমুজ!

গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া এক হাই-ভোল্টেজ ফোনালাপ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন সংবাদপত্র ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ওই সংবাদপত্রের দাবি ছিল, মোদি-ট্রাম্পের গোপন ফোনালাপের সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক। তবে শনিবার সেই দাবিকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
বিদেশ মন্ত্রকের স্পষ্টীকরণ: বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে। সেখানে অন্য কোনও তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতির খবর সঠিক নয়। মূলত পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ বা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতর— কোনও পক্ষই মাস্কের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেনি।
আলোচনার কেন্দ্রে ‘হরমুজ প্রণালী’: ইরান ও ইজরায়েল-মার্কিন সংঘাতের জেরে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’। এই পথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয়। ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই জলপথ দ্রুত সচল করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বশান্তি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। ট্রাম্পও ভারতের এই অবস্থানের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন।
মাস্কের উপস্থিতি নিয়ে ধন্দ: নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্পের খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন মাস্ক। এমনকি দুই রাষ্ট্রনেতার সংলাপে একজন সাধারণ নাগরিকের উপস্থিতি ‘অস্বাভাবিক’ হলেও ট্রাম্পের দুই আধিকারিক নাকি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মাস্ক ভারতে তাঁর ব্যবসা (SpaceX ও Tesla) সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন, তাই এই ধরণের জল্পনা ছড়ানো হচ্ছে। তবে আপাতত মোদি-ট্রাম্পের লক্ষ্য একটাই— পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামিয়ে জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল করা।