আধা ঘণ্টা ওয়েবকাস্টিং বন্ধ থাকলেই পুনর্নির্বাচন! ভোট আবহে স্মিতা পাণ্ডের নজিরবিহীন নির্দেশিকা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। কলকাতা উত্তরের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO North) তথা পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে শনিবার এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিলেন, নির্বাচনের কাজে যুক্ত কলকাতা পুরসভার কর্মী বা আধিকারিকরা যদি নির্দিষ্ট ৬টি অপরাধে লিপ্ত হন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নবান্নের নির্দেশের রেশ টেনেই এদিন তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
সেই ৬টি ‘নিষিদ্ধ’ কাজ কী কী? স্মিতা পাণ্ডে স্পষ্ট করেছেন যে, আসন্ন ভোটে হিংসা ছড়ানো, ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রলোভন দেওয়া, ছাপ্পা ভোট, বুথ জ্যামিং এবং ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়া— এই ৬টি বিষয় কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যদি কোনও পুরকর্মী বা আধিকারিক এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদর্শ আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘনের বিষয়েও কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বুথ নিরাপত্তা ও রিপোল নিয়ে বড় ঘোষণা: উত্তর কলকাতার ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ১৮৩৫টি বুথেই এবার ১০০% ওয়েবকাস্টিং থাকবে। স্পর্শকাতর বুথগুলোর ক্ষেত্রে ৩টি করে ক্যামেরা লাগানো হবে। স্মিতা পাণ্ডে এদিন এক নজিরবিহীন ঘোষণা করে জানান, “যদি কোনও বুথে টানা ৩০ মিনিটের বেশি ওয়েবকাস্টিং বন্ধ থাকে, তবে সেই বুথে পুনর্নির্বাচন বা রিপোল হবে।” এছাড়া এবারই প্রথম তিনটি হাইরাইজ বিল্ডিংকে ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটারদের আস্থা ফেরাতে এবং ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং’ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।