ইরান যুদ্ধের আবহে দেশে কৃত্রিম সংকট? ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন, মজুতদারদের জন্য বড় দুঃসংবাদ!

ইরান যুদ্ধের আঁচ বাংলাদেশে সরাসরি না লাগলেও, তার প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে হাহাকার পড়ে গেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে মাইলের পর মাইল যানবাহনের লাইন, আর এরই মাঝে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে একদল অসাধু মজুতদার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার ৯টি জেলার ১৯টি তেল ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করেছে সরকার। পাশাপাশি পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়োগ করা হয়েছে বিশেষ ‘ট্যাগ অফিসার’।

যেভাবে চলছে তেলের লুকোচুরি: সারাদেশে ডিবির অভিযানে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাটোরে বাঁশঝাড়ের নিচে পানির ট্যাংকে ১০ হাজার লিটার তেল লুকিয়ে রাখা থেকে শুরু করে কুড়িগ্রামে গোয়ালঘরে ড্রাম ভর্তি পেট্রোল— মজুতদারির অভিনব সব কৌশল দেখে তাজ্জব দুঁদে অফিসাররাও। শেরপুর, টাঙ্গাইল ও জামালপুরেও হাজার হাজার লিটার অবৈধ তেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সরাসরি জানিয়েছেন, দেশে তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই, বরং কালোবাজারিরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।

মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে শাস্তি: মজুতদারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুতদারি ও কালোবাজারির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এমনকি ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও মোটা অংকের জরিমানাও হতে পারে। সরকার ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে।

প্যানিক বায়িং ও সরবরাহ সংকট: কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান মনে করেন, যুদ্ধের খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে বেশি তেল কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একদিকে সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি— এই দুইয়ে মিলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকার বলছে, বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে তেল আনা হচ্ছে, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে সীমান্তে তেল পাচার রোধে বিজিবি ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।