লাভপুরে অভিষেকের সভা শেষে দাউদাউ আগুন! অল্পের জন্য রক্ষা পেল তৃণমূল নেতার হেলিকপ্টার

শনিবার দুপুরে বীরভূমের লাভপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল। সভা শেষ করে অভিষেক মঞ্চ ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হঠাৎ দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে সভামঞ্চের একাংশ। আগুনের শিখা এতই প্রবল ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে।

অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় এড়ানো: ঘটনাচক্রে, যখন আগুন লাগে তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিকটবর্তী সতীপীঠ ফুল্লরাতলা মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যে স্থানে আগুন লেগেছিল, সেখান থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরেই রাখা ছিল অভিষেকের হেলিকপ্টার। দমকলের তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে না এলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব সহ শীর্ষ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন। নাইট্রোজেন গ্যাস এবং জল ছিটিয়ে বোলপুর দমকল বিভাগের কর্মীরা অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

শর্ট সার্কিট না অন্য কিছু? দমকলের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত। তবে রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। এদিনের সভায় অনুব্রত মণ্ডল, চন্দ্রনাথ সিংহদের মতো হেভিওয়েট নেতারা উপস্থিত থাকলেও জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে অভিষেক বলেছিলেন, “এটা প্রতিশোধ নেওয়ার ভোট।” সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এই অগ্নিকাণ্ড বীরভূমের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দিল।