‘মমতার অনুপ্রবেশের রাজনীতিতে বিপন্ন দেশের নিরাপত্তা!’ কলকাতায় দাঁড়িয়ে শাহের তোপ, নিশানায় শিলিগুড়ি করিডর

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে শনিবার কলকাতায় পা রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নিউটাউনে এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ৩৫ পাতার এক চাঞ্চল্যকর ‘চার্জশিট’ পেশ করলেন তিনি। শাহের সাফ দাবি, তৃণমূলের “অনুপ্রবেশের রাজনীতি”র কারণেই আজ ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেন’স নেক’ গভীর সংকটের মুখে।
নিরাপত্তা নিয়ে বড় অভিযোগ: অমিত শাহ এদিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, “বাংলার এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি দেশের নিরাপত্তার লড়াই। অসমে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আজ ঝুঁকির মুখে।” তাঁর অভিযোগ, এই অনুপ্রবেশকারীরা কেবল নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে না, বরং গরিব শ্রমিকদের রুজি-রুটি এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানেও ভাগ বসাচ্ছে। সেই সঙ্গে জাল নোটের কারবার চালিয়ে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
সীমান্তে কাঁটাতারের কাঁটা: সীমান্ত নিরাপত্তার দায় নিয়ে তৃণমূলের পাল্টা যুক্তিকে খণ্ডন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মমতা দিদি হয়তো বলবেন সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রের। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমি দিতে বারবার অস্বীকার করেছে। আমরা ক্ষমতায় এলে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তের জন্য জমি বরাদ্দ করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করব।” শাহের হুঙ্কার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময় আর বেশি নেই। এই চার্জশিট আসলে বাংলার বঞ্চিত জনগণের মনের কথা।