বাংলার বকেয়া টাকা বনাম বিজেপির দুর্নীতি বাণ; ভোটমুখী বঙ্গে শাহ-ব্রাত্যর ধুন্ধুমার বাকযুদ্ধ

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই তপ্ত বাংলার রাজনীতি। শনিবার কলকাতায় এসে তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে ৩৫ পাতার এক চাঞ্চল্যকর ‘চার্জশিট’ পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে সেই চার্জশিটকে নস্যাৎ করে দিয়ে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। মণিপুর থেকে হাথরস— একাধিক ইস্যু টেনে বিজেপিকে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

অমিত শাহের আক্রমণ: এদিন শাহ তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, এই চার্জশিট বিজেপির নয়, বরং বাংলার বঞ্চিত জনগণের। তিনি বলেন, “সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়ে এই রাজ্যকে সিন্ডিকেট রাজে পরিণত করা হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে রেশন দুর্নীতি— তৃণমূলের আমলে দুর্নীতি এখন রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে।” তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নিয়োগ দুর্নীতির শিকার যুবকদের বয়সে ৫ বছরের ছাড় দেওয়া হবে এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে। ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আক্রমণ করে তিনি জানান, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মনস্তুষ্টির জন্য অসাংবিধানিক ভাবে সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ব্রাত্য বসুর পাল্টা তোপ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অভিযোগের পাহাড়কে এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে ব্রাত্য বসু পাল্ট প্রশ্ন করেন, “বাংলায় এসে নারী নিরাপত্তার কথা বলছেন, কিন্তু হাথরস বা উন্নাও নিয়ে কেন চুপ? মণিপুর বা ব্রিজভূষণ সিংকে নিয়ে আপনাদের মুখে কথা নেই কেন?” তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়।

ব্রাত্য বসু কেন্দ্রকে নিশানা করে আরও বলেন, “বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে। গ্রামীণ আবাসন থেকে জলজীবন মিশন— সব খাতের টাকা বাংলা পাচ্ছে না অথচ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো পাচ্ছে। বাংলার মানুষকে কেবল অনুপ্রবেশকারী আর রোহিঙ্গা বলে অপমান করা হচ্ছে।” তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় কথা বলেননি বলেই রক্ষা, না হলে অন্যান্য রাজ্যে যেভাবে মানুষ ক্ষুব্ধ, তাতে তাঁকেও তাড়া খেতে হতো। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে এই ‘চার্জশিট বনাম পাল্টা চার্জশিট’ পর্ব বাংলার রাজনীতিকে এক নতুন মোড় দিল।