রেললাইন কি গোচারণ ভূমি? কড়া হুঁশিয়ারি পূর্ব রেলের! গবাদি পশু নিয়ে সামান্য ভুলে হতে পারে জেল-জরিমানা

রেললাইন আসলে কার? প্রশ্নটা শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও, বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে এটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রেললাইন শুধুমাত্র চাকার ওপর ভর করে চলা ইঞ্জিন এবং ট্রেনের কোচগুলোর জন্য। এখানে অন্য কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ—তা মানুষ হোক বা গবাদি পশু—সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আইনত দণ্ডনীয়।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই পূর্ব রেলের বিভিন্ন শাখায় গবাদি পশু ট্রেনের ধাক্কায় মারা যাওয়ার (Cattle Run-over) ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১লা জানুয়ারি থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত মাত্র তিন মাসেই ৭২টি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নিরীহ প্রাণহানি ঘটছে, অন্যদিকে ট্রেন চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। অনেক সময় গবাদি পশুর সঙ্গে ধাক্কায় ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে, যার ফলে মাঝপথে ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে ভোগান্তি বাড়ছে হাজার হাজার যাত্রীর।
রেল সূত্রের খবর, সীতারামপুর–মধুপুর, অন্ডাল–আসানসোল, দেওঘর–বাঁকা এবং ভাগলপুর–বাঁকা সহ বেশ কিছু সেকশন এখন সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় রেললাইনের পাথরের খাঁজে জন্মানো সতেজ ঘাস বা লতাপাতার লোভে গবাদি পশুরা লাইনের ওপর চলে আসে। মালিকরা অসতর্কভাবে তাদের ছেড়ে রাখায় এই বিপদ বাড়ছে। পূর্ব রেলের প্রধান জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, “রেললাইনের পাশে বসবাসকারী মানুষদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। গবাদি পশুদের সঠিকভাবে বেঁধে না রাখলে বা রেললাইনের ধারে চারণ করতে দিলে তা যেমন পশুর মালিকের আর্থিক ক্ষতি, তেমনই রেলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।”
রেল দপ্তর ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় বেড়া বা ব্যারিয়ার দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা ছাড়া এই অনুপ্রবেশ রোখা অসম্ভব। রেলের পক্ষ থেকে গ্রামগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। মনে রাখবেন, আপনার গবাদি পশুটি রেললাইনে চলে আসা মানে কেবল একটি প্রাণহানি নয়, এটি একটি বড়সড় ট্রেন দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে।