গরম পড়তেই ১২-১৫% বাড়ছে বিয়ারের দাম, পকেটে টান সুরাপ্রেমীদের

দাবদাহে এক চুমুক চিলড বিয়ারে শান্তি খুঁজছেন? সেই শান্তিতেও এবার ভাগ বসাতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল বা ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আঁচ এবার এসে পড়ল সুরাপ্রেমীদের পকেটে। কাঁচামাল এবং জ্বালানি সংকটের জেরে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়তে চলেছে বিয়ারের দাম।
কেন এই দাম বৃদ্ধি? ভারতের মদ শিল্পের ওপর যুদ্ধের জোড়া প্রভাব পড়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ আমদানি করে কাতার থেকে। যুদ্ধের কারণে সেই সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে জ্বালানির আকাল দেখা দিয়েছে। এর ফলে:
-
কাচের বোতলের সংকট: গ্যাস সংকটে ফিরোজাবাদের মতো কাচ শিল্পনগরীতে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। ফলে কাচের বোতলের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ।
-
ক্যান উৎপাদন ব্যাহত: অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে দেরি হওয়ায় ক্যান বিয়ারের জোগানেও টান পড়েছে।
-
প্যাকেজিং খরচ: কাগজের কার্টনের দাম দ্বিগুণ হয়েছে, বেড়েছে লেবেল ও টেপের খরচও।
কতটা বাড়তে পারে দাম? ‘ব্রিউয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’ (BAI) ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারগুলোর কাছে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
যদি এই প্রস্তাব কার্যকর হয়, তবে বহুল প্রচলিত ব্র্যান্ডের একটি ৬৫০ মিলি বোতলের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা ক্যানড বিয়ার পছন্দ করেন, তাঁদের খরচ আরও বেশি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংকটে বড় ব্র্যান্ডগুলো: Heineken (যাদের হাতে বাজারের ৫০% শেয়ার), Anheuser-Busch InBev এবং Carlsberg-এর মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থাগুলি এই পরিস্থিতির শিকার। কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দামের কারণে অনেক সংস্থা উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। ব্রিউয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডিরেক্টর জেনারেল বিনোদ গিরি জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে বর্তমান দামে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
সরকারের অনুমতির অপেক্ষা: ভারতে মদের দাম নিয়ন্ত্রিত হয় রাজ্য সরকারগুলোর মাধ্যমে। ২৮টি রাজ্যের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্যের অনুমতি মিললেই নতুন দাম কার্যকর হবে। যেসব রাজ্য দাম বাড়াতে রাজি হবে না, সেখানে বিয়ারের জোগান তলানিতে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এবারের চৈত্র সেলে শুধু জামাকাপড় নয়, সুরাপ্রেমীদের পছন্দের পানীয়েও টান পড়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।