LPG ও CNG সঙ্কট? বন্ধ হচ্ছে মিষ্টির দোকান, কবে মিটবে এই চরম সংকট?

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেঘ, আর তার আঁচ এসে লাগল মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে। তীব্র এলপিজি (LPG) এবং সিএনজি (CNG) সংকটে কার্যত দিশেহারা সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বহু রেস্তোরাঁ থেকে পাড়ার চপ-মিষ্টির দোকান—ঝাঁপ বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সবথেকে ভয়াবহ অবস্থা হাসপাতাল, হস্টেল এবং ফুড ইন্ডাস্ট্রিগুলির।

গ্যাসের অভাবে চাকা ঘুরছে না বহু অটোর। আর যেগুলি চলছে, সেখানেও বাড়তি ভাড়ার খড়গ নামছে যাত্রীদের ঘাড়ে। এই অস্থির পরিস্থিতিতে আশার আলো ও সতর্কবার্তা নিয়ে মুখ খুললেন অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটার ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিজন বিশ্বাস।

বাণিজ্যিক গ্যাসে মিলছে স্বস্তি?

বিজনবাবু জানান, শুরুতে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও ধাপে ধাপে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে গত শনিবার সরবরাহ ৫০ শতাংশ করা হয়েছিল। বর্তমানে তা ৭০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ, হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য গ্যাসের জোগান আগের চেয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে।

বাড়িতে কি গ্যাস ফুরিয়ে যাবে? আতঙ্কিতদের জন্য বার্তা

গার্হস্থ্য সিলিন্ডার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই একটি সিলিন্ডার থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয়টি পাওয়ার জন্য ‘প্যানিক বুকিং’ করছেন। বিজন বিশ্বাসের পরামর্শ:

  • অযথা হুড়োহুড়ি করবেন না: প্যানিক বুকিংয়ের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও জটিল হচ্ছে।

  • ২৫ দিনের হিসেব: বর্তমানে গ্রাহকদের প্রয়োজনের গুরুত্ব বুঝে (Priority Basis) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

  • ধৈর্য ধরুন: যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহের গতি আগের মতো হবে না। এই সময়ে গ্যাস অপচয় বন্ধ করতে হবে।

বিকল্প পথ কী?

ডমেস্টিক গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বিজনবাবু রান্নায় পদের সংখ্যা কমানোর এবং ইলেকট্রিক ইনডাকশন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। যেখানে পাইপলাইন গ্যাসের সুবিধা আছে, সেখানে সেই বিকল্প ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অটো সংকটের নেপথ্যে ‘উজ্জ্বলা’ সংযোগ?

অটো চালকদের একাংশ সাধারণত উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্রাহকদের কাছ থেকে কম দামে সিলিন্ডার সংগ্রহ করে গাড়ি চালাতেন। বর্তমানে সরবরাহ কমায় উজ্জ্বলা গ্রাহকরা নিজেরাও গ্যাস পাচ্ছেন না, ফলে খোলা বাজারে সেই গ্যাস আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলেই এলপিজি স্টেশনগুলোতে হঠাৎ ভিড় বেড়েছে এবং গ্যাসের অভাবে অটোর চাকা থমকে গেছে।

বিজনবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন, উজ্জ্বলা গ্রাহকরা যাদের প্রয়োজন নেই তারা গ্যাস না নিলে এই সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে গোটা রাজ্য।