“ব্যাপক ইটবৃষ্টি! জ্বলল আগুন”-রামনবমীর মিছিল ঘিরে তুলকালাম মুর্শিদাবাদে

মুর্শিদাবাদ: শুক্রবার রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ এলাকা। জঙ্গিপুর পুরসভা এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

অশান্তির সূত্রপাত: প্রতি বছরের মতো এদিন দুপুর তিনটে নাগাদ জঙ্গিপুর ম্যাকেঞ্জি পার্কে রামনবমীর শোভাযাত্রা জমায়েত হচ্ছিল। অভিযোগ, সিসাতলা এলাকায় ডিজে বক্স বাজিয়ে মিছিল আসার সময় স্থানীয় কিছু বাসিন্দা বাধা দেন। বচসা থেকে মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, মিছিল লক্ষ্য করে সিসাতলা এবং নিস্তা গ্রাম এলাকা থেকে এলোপাথাড়ি পাথর ছোঁড়া হয়।

আগুন ও ভাঙচুর: বিবাদ চরম আকার ধারণ করে যখন মিছিলটি রঘুনাথগঞ্জ ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রায় ১৫০-২০০ জনের একটি দল আচমকা মিছিল লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে। এরপরই ক্ষিপ্ত জনতা ফুলতলা মোড়ে রাস্তার ধারের বেশ কয়েকটি ফলের দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং মালপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা শহরজুড়ে।

পুলিশি অ্যাকশন: খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রঘুনাথগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের লাঠির আঘাতে এবং দুই পক্ষের ইটের ঘায়ে বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে খবর। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, চলছে রুট মার্চ।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:

  • বিজেপি: জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুবলচন্দ্র ঘোষের অভিযোগ, “এটি একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

  • তৃণমূল: জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, “এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়। প্রশাসনকে অনুরোধ করছি যারা এই অশান্তি ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

ঘটনার পর থেকেই জেলাজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোনো প্রকার উস্কানি বা গুজব যাতে না ছড়ায় সেদিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।