বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি! দিনহাটায় উদয়ন-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মীকে ঘিরে রণক্ষেত্র বিজেপি প্রার্থী!

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ফের উত্তপ্ত কোচবিহারের দিনহাটা। এবার খোদ দিনহাটার বিদায়ী বিধায়ক উদয়ন গুহর ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল কর্মীকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি প্রার্থী অজয় রায় ও তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দিনহাটা স্টেশন পাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী রানা বণিকের অভিযোগ, তাঁকে কেবল গালিগালাজই করা হয়নি, বরং নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁর বুকের ওপর পা তুলে বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও তৃণমূলের অভিযোগ আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী রানা বণিকের দাবি, ঘটনার সময় তিনি দিনহাটা স্টেশন পাড়া স্কুলের সামনে ছিলেন। হঠাৎই বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়ের গাড়ি তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে প্রার্থীর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীরা নেমে তাঁকে ঘিরে ধরেন। রানা বণিকের অভিযোগ, “অজয় রায় গাড়ি থেকে নেমে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা আমার বুকের ওপর বুট তুলে উঠে পড়ে এবং বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। এমনকি অজয় রায় নিজের কোমরে গুঁজে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে আমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখান। আমি চরম আতঙ্কে রয়েছি, জানি না আমি বাঁচব কি না।” এই ঘটনায় ইতিমধ্য়েই নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
বিজেপির পাল্টা অভিযোগ ও অজয় রায়ের সাফাই অন্যদিকে, আগ্নেয়াস্ত্র দেখানো বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপাদাপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়। তাঁর পাল্টা দাবি, তৃণমূল কর্মীরাই এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। অজয় রায়ের অভিযোগ, “আমাদের মণ্ডলের সহ-সভাপতি ৬৬ বছরের বৃদ্ধ শ্যামল ভৌমিককে রানা বণিক ও তাঁর দলবল বিনা কারণে মারধর করেছে। একজন প্রবীণ মানুষকে মারধর করা হচ্ছে দেখে আমি প্রতিবাদ করেছি এবং দু-একটা কথা বলেছি। সেটা কি আমার অপরাধ? আমরাও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।”
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনহাটা থানায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমে। সেখানে উপস্থিত হয়ে কোচবিহার জেলা তৃণমূলের সম্পাদক সায়ন্তন গুহ (উদয়ন গুহর পুত্র) বলেন, “বিজেপি প্রার্থী নিশ্চিত হার বুঝতে পেরেই এখন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঢাল করে সাধারণ কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।” পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অজয় রায় বলেন, “কে হারবে আর কে জিতবে, সেটা ভোটের ফল প্রকাশের দিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে।” রামনবমীর প্রাক্কালে দিনহাটার এই উত্তেজনা যে ভোটের ময়দানে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।