রাজনীতির আঙিনায় তিনি এখন পরিচিত নাম, বাগদা বিধানসভার উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে গড়েছেন ইতিহাস। রাজ্যের কনিষ্ঠতম বিধায়ক হিসেবে মধুপর্ণা ঠাকুরের মাথায় এখন অনেক দায়িত্ব। কিন্তু এই উজ্জ্বল রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক সাধারণ মেয়ের স্বপ্ন— যিনি একসময় হতে চেয়েছিলেন কলেজের প্রফেসর। ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি অনামিকা ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে এক একান্ত আলাপচারিতায় নিজের জীবনের এই অজানা দিকগুলো তুলে ধরলেন বাগদার তৃণমূল প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর।
উত্তরাধিকার না কি যোগ্যতা? মধুপর্ণাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁর এই রাজনৈতিক উত্থান কি কেবল ঠাকুরবাড়ির উত্তরাধিকার? অত্যন্ত বিনম্রভাবে তিনি স্বীকার করে নিলেন, “আমার নিজস্ব বলতে কিছুই নেই। আমার প্রথম পরিচয় ঠাকুরবাড়ি, তারপর বিধায়ক। এই জয় মতুয়াদের আশীর্বাদ এবং হরি গুরু চাঁদের কৃপা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বাবা-মায়ের পর তাঁর ওপর আস্থা রেখেছেন, কারণ দল মতুয়া সম্প্রদায়ের আবেগকে সম্মান দেয়। বিরোধীদের ‘পরিবারতন্ত্র’র অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, এটি আসলে মানুষের আস্থার প্রতিদান।
প্রফেসর হওয়ার স্বপ্ন ও এমএসসি পড়াশোনা মধুপর্ণা জানিয়েছেন, রাজনীতিতে আসাটা ছিল সম্পূর্ণ আকস্মিক। “আমি কোনোদিন ভাবিনি রাজনীতিতে আসব। ভেবেছিলাম পিএইচডি করে প্রফেসর হব,” বলেন তিনি। বর্তমানে তিনি নেতাজি ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে এমএসসি করছেন। ভোটযুদ্ধের ব্যস্ততায় আপাতত বইখাতা কিছুটা দূরে থাকলেও, তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। রাজনীতির মঞ্চে প্রথমদিকে মাইক ধরতেও ভয় পেতেন যে মেয়েটি, আজ তিনি সাবলীলভাবে মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছেন।
পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও রাজনীতির প্রভাব ঠাকুরবাড়ির বিভাজন নিয়ে অকপট মধুপর্ণা। বিজেপি ও তৃণমূল— দুই শিবিরের রাজনৈতিক লড়াইয়ে যে ঠাকুরবাড়ি ও মতুয়া সমাজের ক্ষতি হচ্ছে, তা তিনি সরাসরি মেনে নিয়েছেন। তবে নিজের কর্তব্যে তিনি অবিচল। কনিষ্ঠ বিধায়ক হিসেবে তাঁর দেড় বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি সব সময় সাধারণ মানুষের ‘ঘরের মেয়ে’ হয়ে থাকার চেষ্টা করেছেন। নিজের ফোন নম্বর বিলিয়ে দিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন যাতে বিপদে পড়লে মানুষ সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
রুটিন ও ফিটনেস ভোটের গরমে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, কিন্তু মধুপর্ণার ক্লান্তি নেই। সকাল ৭টায় বেরোনো আর রাত সাড়ে ৯টায় ফেরা— এই কড়া রুটিনের মাঝে ভরসা কেবল ওআরএস আর ডাবের জল। তিনি মনে করেন, মনের জোর থাকলে সব প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। মানুষের সেবা করার এই নতুন জীবন এখন তাঁর কাছে চাকরির চেয়েও বেশি তৃপ্তিদায়ক হয়ে উঠেছে।