মাসিকের অসহ্য যন্ত্রণা কি স্বাভাবিক? ১-২ দিনের বেশি ব্যথা হলেই সাবধান! বড় বিপদের সঙ্কেত দিচ্ছে না তো শরীর?

মাসিকের সময় পেটে ব্যথা বা ‘পিরিয়ড ক্র্যাম্প’ প্রায় প্রতিটি নারীর জীবনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাধারণত ঋতুস্রাবের প্রথম এক-দুই দিন তলপেট, কোমর বা উরুতে হালকা থেকে মাঝারি অস্বস্তি হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বাভাবিক বলেই গণ্য করা হয়। জরায়ু তার ভিতরের আস্তরণ ঝরিয়ে ফেলার জন্য যখন সংকুচিত হয়, তখনই এই ব্যথা অনুভূত হয়। হালকা গরম জলের সেঁক, বিশ্রাম বা চিকিৎসকের পরামর্শে সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধেই সাধারণত এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
তবে প্রশ্ন হলো, এই ব্যথা কখন আর ‘স্বাভাবিক’ থাকে না? চিকিৎসকদের মতে, মাসিকের ব্যথা যদি আপনার দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করে, অর্থাৎ ব্যথার কারণে যদি স্কুল, কলেজ বা অফিসে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে তা গভীর উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি সাধারণ ওষুধেও ব্যথার উপশম না হয় এবং এই অস্বস্তি তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে বিষয়টি মোটেও এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
পিরিয়ডের কয়েকদিন আগে থেকেই তীব্র খিঁচুনি শুরু হওয়া, অতিরিক্ত রক্তপাত, অনিয়মিত মাসিক কিংবা মিলনের সময় ব্যথা অনুভব করা এন্ডোমেট্রিওসিস বা ইউটেরাইন ফাইব্রয়েডের মতো গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই মাসের ওই দিনগুলোতে অস্বাভাবিক যন্ত্রণা অনুভব করলে লজ্জা বা ভয় না পেয়ে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।