চাঁদে স্পার্ম হারিয়ে যায়, বংশবৃদ্ধি হবে কীভাবে? এবার নয়া প্ল্যান বিজ্ঞানীদের

এলন মাস্কের স্পেস-এক্স (SpaceX) হোক বা নাসার (NASA) আর্টেমিস মিশন— লক্ষ্য একটাই, চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন কি আদৌ সফল হবে? ২৬ মার্চ, ২০২৬-এ ‘কমিউনিকেশনস বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, মহাকাশে মানুষের টিকে থাকা যতটা কঠিন, তার চেয়েও কঠিন হবে বংশবৃদ্ধি করা। কারণ? মহাকাশে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলছে পুরুষের শুক্রাণু!
কেন এই বিপত্তি?
পৃথিবীতে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি শুক্রাণুকে সঠিক পথ দেখিয়ে ডিম্বাণুর কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু মহাকাশের ‘মাইক্রোগ্র্যাভিটি’ বা স্বল্প মাধ্যাকর্ষণে শুক্রাণু দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোল ম্যাকফারসন ও তাঁর দল দেখেছেন:
-
শুক্রাণুর গায়ে থাকা ‘মেকানোসেন্সর’ প্রোটিনগুলো মাধ্যাকর্ষণের টান অনুভব করে পথ চলে।
-
মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ না থাকায় এই সেন্সরগুলো বিকল হয়ে যায়, ফলে শুক্রাণু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
পৃথিবীতে কৃত্রিমভাবে মহাকাশের পরিবেশ তৈরি করে ইঁদুর, শূকর এবং মানুষের শুক্রাণু নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। ফলাফল ছিল ভয়াবহ:
-
নিষেকের হার হ্রাস: ইঁদুরের ক্ষেত্রে ডিম্বাণু নিষিক্তকরণের হার ৩০% এবং শূকরের ক্ষেত্রে ১৫% কমে গিয়েছে।
-
ভ্রূণের বিকাশ: গবেষণায় দেখা গেছে, মাধ্যাকর্ষণ ছাড়া ভ্রূণের সঠিক গঠন ও জরায়ুর প্রাচীরে সংযুক্ত হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
-
হরমোনের ব্যর্থতা: ডিম্বাণুর দিকে শুক্রাণুকে টানার জন্য যে প্রোজেস্টেরন হরমোন কাজ করে, মহাকাশে তার কার্যকারিতা বজায় রাখতে স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেশি মাত্রার প্রয়োজন।
বিপন্ন আগামীর স্বপ্ন?
চাঁদ বা মঙ্গলে শহর বানানোর পরিকল্পনা চললেও, সেখানে যদি পরবর্তী প্রজন্মের জন্মই না হয়, তবে সেই বসতির ভবিষ্যৎ কী? বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাকাশ জয় কেবল রকেট সায়েন্সের চ্যালেঞ্জ নয়, এটি এখন মৌলিক জীববিজ্ঞানের লড়াই।
সমাধান কোথায়?
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে মহাকাশ স্টেশনে কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ তৈরি করা অথবা প্রজনন সহায়ক বিশেষ ওষুধের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করতে হবে। তবে আপাতত মহাকাশে ‘মানুষের ঘর’ বাঁধার স্বপ্নে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন বসিয়ে দিল এই গবেষণা।