“আমি আর মোদিই পারি কাজ করে দেখাতে!” পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে ট্রাম্পের গলায় দরাজ প্রশংসা

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ, ঠিক তখনই বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার ত্রিমুখী সংঘাতের জেরে যখন গোটা বিশ্ব থমথমে, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি। শুক্রবার ভারতে মার্কিন দূতাবাসের তরফে প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “Modi and I are two people that get things done”। অর্থাৎ, তিনি এবং মোদি—উভয়েই এমন ব্যক্তিত্ব যাঁরা কেবল প্রতিশ্রুতি দেন না, বরং কাজ করে দেখান।
সম্প্রতি ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী মোদি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত কোনওভাবেই যুদ্ধের পক্ষে নয়, বরং দ্রুত সংঘাত প্রশমনের পক্ষপাতী। বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’ যাতে খোলা থাকে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার জন্য মোদি আর্জি জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সদিচ্ছাকেই কার্যত দরাজ শংসাপত্র দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য নিছকই রাজনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং এক গভীর কৌশলগত বার্তা। বর্তমানের এই টালমাটাল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে আমেরিকা যে ভারতকে তাদের অন্যতম প্রধান এবং নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে দেখছে, ট্রাম্পের কথাতেই তা পরিষ্কার। যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে এলেও ভারত ও আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ক যে আরও মজবুত হচ্ছে, এই বার্তা বিশ্ব অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। মোদির এই ‘শান্তির দূত’ ইমেজ এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর এই ব্যক্তিগত রসায়ন ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।