ভবানীপুরে কি উল্টে যাবে খেলা? মার্জিন নিয়ে হঠাৎ সুর বদল শুভেন্দুর, চিন্তায় তৃণমূল!

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের এপিসেন্টার এখন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। একুশে নন্দীগ্রামের সেই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের পর ফের মুখোমুখি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন তৃণমূলের টার্গেট ‘৬০ হাজারি লিড’, তখন অন্যদিকে কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিলেন শুভেন্দু।

শুভেন্দুর সুরবদল: আত্মবিশ্বাস না রণকৌশল?

প্রথমদিকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, ভবানীপুরে অন্তত ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়ী হবেন। তবে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাঁকে কিছুটা নমনীয় শোনা গেল। তিনি বলেন, “আগে উৎসাহিত হয়ে ২৫ হাজারের কথা বলেছিলাম, তবে এখন মার্জিন নিয়ে কিছু বলছি না। সবটাই জনগণের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।” রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, তবে কি নিচুতলার সমীকরণ বুঝে হিসেব কষছেন শিশির-পুত্র?

মমতার ‘এক ভোট’ ও অভিষেকের ‘টার্গেট’

অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারও নিজের জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি জানিয়েছেন, “একটি ভোটে হলেও ভবানীপুরে জয় আমাদেরই হবে।” তবে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু কর্মীদের জন্য কঠিন লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন— ৬০ হাজার ভোটের লিড। যার জন্য ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা নিজেদের কেন্দ্র ছেড়ে এখন ভবানীপুরের অলিতে-গলিতে প্রচার চালাচ্ছেন।

পরিসংখ্যানের কাঁটা: কেন চিন্তায় ঘাসফুল?

বিজেপির আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল। তথ্য বলছে:

  • ২০২১ বিধানসভায় ভবানীপুরে তৃণমূলের লিড ছিল ২৮ হাজার+

  • ২০২৪ লোকসভায় সেই লিড কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮,২৯৭-এ।

  • ২৬৯টি বুথের মধ্যে ১৪৯টি বুথেই এগিয়ে ছিল বিজেপি।

  • কলকাতা পুরসভার ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টিতেই লিড পেয়েছে গেরুয়া শিবির।

লড়াইটা কি সমানে সমানে?

শুভেন্দু বারবারই বলছেন, “নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও মুখ্যমন্ত্রীকে হারাব।” অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি— লোকসভা আর বিধানসভা এক নয়। মেমোরিয়াল আর ভিক্টোরিয়ার ছায়া ঘেরা এই হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নিয়ে এখন সরগরম চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িংরুম।