‘বাঁশ চিহ্নে ভোট দিয়ে যান…’ নতুন রাজনৈতিক দল গড়ছেন ‘হুলিগানিজম’-এর অনির্বাণ?

বড়পর্দায় তাঁকে শেষ কবে দেখা গিয়েছে, তা মনে করতে হয়তো দর্শকদের একটু সময় লাগবে। কিন্তু মঞ্চে তিনি যখন মাইক্রোফোন ধরেন, তখন গোটা রাজ্য তাঁর কথায় ওঠে-বসে। তিনি অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। তবে এবার অভিনয়ের জন্য নয়, বরং নিজের ব্যান্ড ‘হুলিগানিজম’-এর গান দিয়ে রাজনীতির ময়দানে কার্যত ‘বোমা’ ফাটালেন তিনি।
যাদবপুরে কী ঘটল?
বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শো ছিল অনির্বাণ ও দেবরাজদের। সেখানেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে একটি নতুন প্যারোডি গান গেয়ে শোনান তাঁরা। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অনির্বাণ একে একে তৃণমূল, বিজেপি এবং সিপিএম— তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের নাম নিচ্ছেন। এরপরই দর্শকদের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, “বলুন, নতুন পার্টি চান?” উত্তরে সমবেত ছাত্রছাত্রীদের চিৎকার শোনা যায়— “চাই!”
“বাঁশ চিহ্নে ভোট দিয়ে যান…”
গানের মেজাজে অনির্বাণ এরপর যা বলেন, তাতেই হাসির রোল ওঠে নেটদুনিয়ায়। অনির্বাণ বলে ওঠেন, “বাঁশ, বাঁশ! বাঁশ চিহ্নে ভোট দিয়ে যান, জয় শ্রী হুলিগান!” সরাসরি নাম না নিলেও, এই গানের শব্দচয়ন যে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি তীব্র কটাক্ষ, তা বুঝতে বাকি নেই কারও। ব্যান্ডের নাম ‘হুলিগানিজম’ হলেও, অনির্বাণরা বুঝিয়ে দিলেন তাঁরা গুণ্ডামি নয়, বরং ‘গান দিয়ে হুল’ ফোটাতে ওস্তাদ।
ছাব্বিশের ভোটের আবহে নতুন বিতর্ক?
এর আগেও ‘মেলার গান’ গেয়ে তিন দলকে একই সূত্রে বেঁধেছিলেন অনির্বাণ। এবারও তাঁর নিশানায় শাসকের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলিও। যদিও অনির্বাণ নিজে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে দাবি করেন না, তবুও তাঁর সার্কাজম এবং প্যারোডির মিশেল বারংবার শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষকেই অস্বস্তিতে ফেলেছে।
পর্দায় নেই, কিন্তু চর্চায় শীর্ষে
সিনেমায় দেখা না গেলেও অনির্বাণের ক্রেজ যে একচুলও কমেনি, যাদবপুরের ভিড়ই তার প্রমাণ। বড়দের থেকে নতুন প্রজন্ম— অনির্বাণের এই ‘রাজনৈতিক গান’ এখন সবার স্মার্টফোনে। ভক্তদের মতে, অনির্বাণ যা বলেন তা সপাটে বলেন, আর সেটাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।