গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে কেন্দ্রের বিরাট ধামাকা! এক ধাক্কায় ২০% কোটা বৃদ্ধি, কাদের কপাল খুলল?

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতার মাঝেই দেশের শিল্প মহলের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর শোনাল কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের বরাদ্দ একধাক্কায় ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত উৎপাদন ও শিল্প ক্ষেত্রে গতি আনতেই সরকারের এই মেগা পরিকল্পনা।

এই নতুন বরাদ্দের হিসেবে রাজ্যগুলোর জন্য নির্ধারিত পুরনো কোটার ৪০ শতাংশ এবং সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মূলত পাইপবাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা PNG ব্যবহারের প্রসারে যেসব রাজ্য ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে, তারা বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে। ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাতের ফলে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই ভারতের এই সাহসী পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সচিব ড. নীরজ মিত্তালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত বরাদ্দ মূলত শ্রম-নিবিড় শিল্পগুলিকে চাঙ্গা করতে ব্যয় করা হবে। ইস্পাত, অটোমোবাইল, বস্ত্রশিল্প, রাসায়নিক এবং প্লাস্টিক শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে। বিশেষ করে সেই সব ‘প্রসেস ইন্ডাস্ট্রি’ অগ্রাধিকার পাবে যেখানে তাপ প্রদানের জন্য এলপিজি অপরিহার্য এবং প্রাকৃতিক গ্যাস যেখানে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

এর আগে গত ২৩ মার্চ সরকার বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছিল, যেখানে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হোটেলের মতো জরুরি ক্ষেত্রগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য দৈনিক ১৮০টি ৫-কেজি ওজনের সিলিন্ডারের সংস্থানও রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকার সম্প্রতি পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে আবগারি শুল্ক কমিয়ে সাধারণ মানুষকে বড় স্বস্তি দিয়েছে। এর ফলে পেট্রোলের শুল্ক দাঁড়িয়েছে লিটার প্রতি ৩ টাকা এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে তা কার্যত শূন্যে নেমেছে। তবে অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদকদের ওপর কোনো অতিরিক্ত ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ আরোপ না করে ভারসাম্য বজায় রেখেছে কেন্দ্র।