পকেটে টান দিচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি? সাইকেলের চাকার মতোই টালমাটাল অর্থনীতি সামলানোর ৫টি অব্যর্থ টোটকা!

মুদ্রাস্ফীতি বা ‘ইনফ্লেশন’ আসলে ঠিক কী? সেবি (SEBI) শংসায়িত বিশেষজ্ঞ শমিতা সাহার মতে, এটি অনেকটা সাইকেলের চাকার হাওয়ার মতো। হাওয়া ঠিকঠাক থাকলে জীবন দিব্যি চলে, কিন্তু হাওয়া কমে গেলে বা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে— দুটো ক্ষেত্রেই টায়ার ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। বর্তমান ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তেলের দাম বাড়ায় সেই মুদ্রাস্ফীতির হাওয়া এখন টালমাটাল। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আপনার পকেটে।
কেন বাড়ছে দাম? সাধারণত চাহিদা বেড়ে গেলে অথবা জোগান কমে গেলে জিনিসের দাম বাড়ে। বর্তমানে যুদ্ধের কারণে তেলের জোগানে টান পড়েছে, যার ফলে পেট্রল, ডিজেল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। ব্যবসায়ীরা খরচ সামলাতে জিনিসের দাম বাড়াচ্ছেন, উৎপাদন কমাচ্ছেন এবং কর্মী ছাঁটাই করছেন। ফলে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের মূল্য কমে যাচ্ছে।
কী করছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক? ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) বা আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ‘রেপো রেট’ বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ, বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে দেওয়া ঋণের সুদের হার বাড়ে। এর ফলে আপনার হোম লোন বা পার্সোনাল লোনের ইএমআই (EMI) বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বাঁচার উপায়: ৫টি জরুরি পরামর্শ ১. খরচে লাগাম: অপ্রয়োজনীয় শখ বা বিলাসিতা কমিয়ে ফেলুন। ২. স্মার্ট বিনিয়োগ: এমন জায়গায় টাকা রাখুন যেখানে রিটার্ন বা লাভের হার মুদ্রাস্ফীতির হারের চেয়ে বেশি হয়। ৩. ঋণ মুক্তি: ক্রেডিট কার্ড বা পার্সোনাল লোনের মতো চড়া সুদের ঋণ দ্রুত শোধ করুন। ৪. বাড়তি আয়: নতুন কোনো দক্ষতা শিখে রোজগারের বিকল্প উৎস তৈরি করুন। ৫. পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য: সমস্ত টাকা এক জায়গায় না রেখে সোনা, মিউচুয়াল ফান্ড বা ফিক্সড ডিপোজিটের মতো বিভিন্ন সম্পদে ভাগ করে বিনিয়োগ করুন।