পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল: শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মোদি, কতটা তৈরি ভারত?

কোভিড অতিমারির সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতি যেন ফের ফিরে আসছে। তবে এবার ভাইরাস নয়, আতঙ্কের নাম ‘যুদ্ধ’। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি কেবল কয়েক দিনের নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে—এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন তিনি।
‘টিম ইন্ডিয়া’র ওপর জোর: রাজ্যগুলি কতটা প্রস্তুত? প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই লোকসভায় সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাব ভারতের অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ওপর সরাসরি পড়ছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন তিনি। সূত্রের খবর, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে এই সংকট মোকাবিলার রূপরেখা তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এলপিজি ও তেলের সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেই নজর দিচ্ছে কেন্দ্র।
ভোটমুখী রাজ্যগুলোতে আলাদা নজর বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরিতে নির্বাচনের দামামা বেজে যাওয়ায় আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (MCC) চালু রয়েছে। ফলে এই ৫ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে যাতে কোনো ফাঁক না থাকে, সেজন্য ক্যাবিনেট সেক্রেটারি টিভি সোমনাথন এই রাজ্যগুলোর মুখ্যসচিবদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে কালোবাজারি বা অতিরিক্ত কেনাকাটা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়েই আগামীকাল আলোচনা করবেন মোদি।