মোদী-শাহের পরামর্শেই কি বাংলায় অফিসার পাঠাচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমার? সরাসরি আক্রমণে তৃণমূল সাংসদ!

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই এবার সরাসরি ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) নিরপেক্ষতা নিয়ে রণং দেহি মেজাজে তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ তুলে কার্যত বোমা ফাটালেন তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। তাঁর সাফ দাবি, নির্বাচন কমিশন এখন পুরোপুরি ‘বিজেপির ইশারায়’ কাজ করছে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে দিয়ে সুবিধা করতে না পেরে এখন কমিশনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে গেরুয়া শিবির।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আইপিএস আধিকারিক জয়ন্ত কান্ত। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য পুলিশ পর্যবেক্ষক (Police Observer) হিসেবে নিযুক্ত করেছে। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, এই নিয়োগ সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট। সায়নী ঘোষ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব হ্যান্ডবুক অনুযায়ী পর্যবেক্ষকদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু যাঁর স্ত্রী সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, সেই অফিসার কীভাবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন?” এই ইস্যুতেই ইতিমধ্যেই কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে জোড়াফুল শিবির।

সায়নী আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পরামর্শেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বেছে বেছে লোক পাঠাচ্ছেন বাংলায়। তাঁর কথায়, “এতদিন ইডি, সিবিআই, আইটি এবং এনআইএ দিয়ে ভয় দেখিয়ে কোনো সুবিধা করতে না পেরে এখন কমিশনকে ময়দানে নামিয়েছে বিজেপি। তবে বাংলার মানুষই শেষ কথা বলবেন। আপনাদের কাছে যতই অর্থ বা ক্ষমতা থাকুক না কেন, বাংলায় জয় পাওয়া বিজেপির জন্য একটি সুদূর স্বপ্ন হয়েই থাকবে।”

তৃণমূলের দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার পরিবর্তে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই এই ধরণের অফিসারদের রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। সায়নী ঘোষের এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তৃণমূলের এই লাগাতার আক্রমণ আগামী দিনে ভোট যুদ্ধে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।