ইটবৃষ্টি-লাঠিতে রণক্ষেত্র এলাকা, BJP প্রার্থীর প্রচারে ধুন্ধুমার, ঠিক কী হয়েছে?

লোকসভা নির্বাচনের আগে তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দারের প্রচারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, প্রাণ বাঁচাতে খোদ প্রার্থীকে ভারত সেবাশ্রমে আশ্রয় নিতে হয়। এই ঘটনায় দুই পক্ষের ইঁটবৃষ্টিতে অন্তত ৮ জন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত: বৃহস্পতিবার সকালে বাসন্তী বাজার এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার। অভিযোগ, প্রচার চলাকালীনই একদল দুষ্কৃতী তাঁদের পথ আটকায় এবং বাধা দেয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুলিশ বিজেপি কর্মীদের সতর্ক করে জানায়, এই মুহূর্তে প্রচার চালালে অশান্তি আরও বাড়তে পারে। কিন্তু বিজেপি পিছু হটতে নারাজ থাকায় পুলিশের সঙ্গেই বচসা শুরু হয় গেরুয়া শিবিরের।

ইঁটবৃষ্টি ও লাঠিচার্জ: বচসা চলাকালীনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আচমকাই বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে ইঁট ছুড়তে শুরু করে। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে বিজেপিও। দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে রক্তাক্ত হন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।

আশ্রয় নিতে হলো আশ্রমে: চারিদিকে ইঁটবৃষ্টি ও উত্তেজনার মাঝে কোনোক্রমে এলাকা ছাড়েন বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার। তিনি পার্শ্ববর্তী ভারত সেবাশ্রমে গিয়ে আশ্রয় নেন। বিজেপির দাবি, “পুলিশের সামনেই তৃণমূলের হার্মাদরা হামলা চালিয়েছে।” যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে একে ‘সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ’ বলে দাবি করেছে।

একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি:

  • আহত: ৮ জন পুলিশকর্মী চিকিৎসাধীন।

  • এলাকা: বাসন্তী বাজার ও সংলগ্ন অঞ্চল এখনও থমথমে।

  • নিরাপত্তা: মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ (RAF)।

ভোটের মুখে বাসন্তীর এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নির্বাচন কমিশনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।