মাঝ আকাশে মৃত্যুমুখ থেকে ফেরা! ঝড়ের কবলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমান, রুদ্ধশ্বাস দেড় ঘণ্টা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকাশপথে সফর মানেই যেন এক অজানা আতঙ্ক। বুধবার ফের একবার মাঝ আকাশে বড়সড় বিপদের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। অণ্ডাল থেকে কলকাতা ফেরার পথে প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কালবৈশাখীর কবলে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আকাশের বুকে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা নিয়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে।

নির্বাচনী মরসুমে উত্তরবঙ্গ সফর সেরে মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর এবং বীরভূমের দুবরাজপুরে জনসভা করতে গিয়েছিলেন। সভা শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে ৩৯ মিনিটে অণ্ডাল বিমানবন্দর থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় তাঁর বিমান। স্বাভাবিক অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যেই দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, পথিমধ্যে বাধ সাধে প্রকৃতি। কলকাতার আকাশে তখন শুরু হয়েছে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল শিলাবৃষ্টিতে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসে।

বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ বিমানটি কলকাতার কাছাকাছি এলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অবতরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটিিস (ATC)-র নির্দেশে বিমানটি অবতরণ না করে আকাশের বুকেই চক্কর কাটতে থাকে। অন্যদিকে, দমদম বিমানবন্দরেও তখন তাণ্ডব চালাচ্ছে প্রকৃতি। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে বিমানবন্দরের বেশ কিছু অস্থায়ী কাঠামো ও পুলিশের ছাউনি উড়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের গাড়িগুলোকেও ঝড়ের ঝাপটায় স্থির রাখা যাচ্ছিল না।

দীর্ঘ ৯০ মিনিট ধরে উৎকণ্ঠার পর যখন আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হয়, তখন বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে শেষ পর্যন্ত নিরাপদ অবতরণ সম্ভব হয়। এর আগেও একাধিকবার হেলিকপ্টার বিভ্রাটে পড়ে চোট পেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে এদিনের ঘটনা পুনরায় তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। অবতরণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকলেও ধকলের কারণে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।