মাঝআকাশে রুদ্ধশ্বাস ৯০ মিনিট! কালবৈশাখীর কবলে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান, শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে নামতে পারল না দমদমে!

ফের একবার বড়সড় বিমান বিভ্রাটের মুখে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল থেকে কলকাতা ফেরার পথে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ে তাঁর বিমান। পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল ছিল যে, প্রায় দেড় ঘণ্টা মাঝআকাশেই চক্কর কাটতে হয় তৃণমূল সুপ্রিমোর বিমানকে। শেষমেশ রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর নিরাপদ অবতরণ সম্ভব হলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কী ঘটেছিল মাঝআকাশে? এদিন বিকেল ৩টে ৩৯ মিনিটে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় মুখ্যমন্ত্রীর বিমান। স্বাভাবিক সময়ে অন্ডাল থেকে দমদম পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগে না। কিন্তু বিমান যখন কলকাতার কাছাকাছি, তখনই শুরু হয় কালবৈশাখীর তান্ডব। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় প্রবল শিলাবৃষ্টি। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসের গতিবেগ অস্বাভাবিক থাকায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঝুঁকি না নিয়ে পাইলট বিমানটিকে আকাশেই ঘুরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট পর, ৫টা ১৮ মিনিটে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিমানটি নিরাপদে মাটি ছোঁয়।

বিমানবন্দরেও তান্ডব: শুধু আকাশেই নয়, মাটির পরিস্থিতিও ছিল ভয়াবহ। ঝড়ের দাপটে বিমানবন্দরের একাধিক অস্থায়ী কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি পুলিশের অস্থায়ী ছাউনিও উড়ে যায় বলে খবর। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের গাড়িগুলি যখন রানওয়ের কাছে তাঁর অপেক্ষায় ছিল, বাতাসের তীব্রতায় সেই গাড়িগুলিকেও স্থির রাখা যাচ্ছিল না।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার হেলিকপ্টার ও বিমান বিভ্রাটের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও যান্ত্রিক ত্রুটি, আবার কখনও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া— বারেবারে তাঁর যাত্রা বিঘ্নিত হয়েছে। গত বছর হেলিকপ্টার থেকে নামতে গিয়ে তিনি পায়ে গুরুতর চোটও পেয়েছিলেন। আজকের এই দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুখ্যমন্ত্রী সুস্থভাবে নামায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে প্রশাসন ও ঘাসফুল শিবির।