৫০০ সিলিন্ডার বুক করলে আসছে মাত্র ২০০! ‘চেন দিয়ে বেঁধে’ গ্যাস ডেলিভারি, রাজ্যে তুঙ্গে সংকট

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশের জ্বালানি বাজারে কার্যত আগুন লেগেছে। আন্তর্জাতিক সংকটের দোহাই দিয়ে রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগানে টান পড়ায় রাজ্যজুড়ে হাহাকার শুরু হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই গ্যাস বুকিংয়ের নিয়ম ও সময়সীমা নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। একদিকে কেন্দ্র দাবি করছে দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে, অন্যদিকে ডিস্ট্রিবিউটররা বলছেন উল্টো কথা। তাঁদের দাবি, “৫০০ সিলিন্ডার বুক করলে আসছে মাত্র ২০০টি।”

কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ডিস্ট্রিবিউটররা চরম সংকটে পড়েছেন। একজন ডেলিভারি বয়ের কথায়, “সামান্য কয়েকটা গ্যাস আসছে, তাও আবার চেন দিয়ে বেঁধে নিয়ে যেতে হচ্ছে। গ্যাস দিতে না পারলে মানুষ মারতে আসছে।” এমনকি অটো চালকরাও এলপিজি-র জন্য পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরছেন।

গ্যাস বুকিংয়ের নতুন সময়সীমা ও নিয়ম:

বিভ্রান্তি দূর করতে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে বুকিংয়ের মূল নিয়মে বদল না হলেও দুটি সিলিন্ডার নেওয়ার মাঝে সময়ের ব্যবধান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে:

  • শহরাঞ্চলে (১৪.২ কেজি ডবল সিলিন্ডার): প্রথম বুকিংয়ের ৩৫ দিন পর দ্বিতীয়টি করা যাবে।

  • ৫ কেজির সিলিন্ডার: শহরে দু’টি বুকিংয়ের মাঝে ৯ দিন এবং গ্রামে ১৬ দিনের ব্যবধান বাধ্যতামূলক।

  • ১০ কেজির সিলিন্ডার: শহরে ১৮ দিন এবং গ্রামে ৩২ দিন পর পরবর্তী বুকিং নেওয়া হবে।

  • সিঙ্গল সিলিন্ডার গ্রাহক: দু’টি বুকিংয়ের মাঝে অন্তত ২৫ দিনের ব্যবধান রাখতে হবে।

  • উজ্জ্বলা যোজনা: এই গ্রাহকদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি সবথেকে বেশি। একটি সিলিন্ডার পাওয়ার ৪৫ দিন পর তাঁরা পরবর্তী রিফিল বুক করতে পারবেন।

সরকারের আশ্বাস বনাম বিরোধীদের তোপ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে ভারতের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সর্বদল বৈঠকও ডাকা হয়েছিল। তবে সরকারের বিদেশনীতির তীব্র সমালোচনা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সেই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিস্ট্রিবিউটর থেকে সাধারণ মানুষ—সকলেই এখন দিশেহারা। কবে এই জ্বালানি সংকট কাটবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।