মেটায় আবারও ছাঁটাই আতঙ্ক! ১০০০ কর্মীর চাকরি কাড়ল AI, আপনার পদটি কি সুরক্ষিত?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-র দাপটে এবার টালমাটাল মার্ক জুকারবার্গের সাম্রাজ্য। ফেসবুকের মূল সংস্থা ‘মেটা’ (Meta) আবারও একদফায় কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটল। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এক ঝটকায় প্রায় ১,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি। মূলত মেটার ‘রিয়েলিটি ল্যাবস’ বিভাগ, সোশ্যাল মিডিয়া টিম এবং রিক্রুটিং বিভাগ এই ছাঁটাইয়ের কবলে পড়েছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই মেটার অন্দরে ছাঁটাইয়ের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল। বছরের শুরুতে যেখানে সংস্থার মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ৭৯,০০০, সেখানে খরচ কমাতে এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে বারবার ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এবারের এই ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি অপেক্ষাকৃত ছোট মনে হলেও, এটি কোম্পানির সামগ্রিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার একটি অংশ।
কেন এই হঠাৎ ছাঁটাই? মেটা বর্তমানে মেটাভার্স প্রকল্প থেকে সরে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। ২০২৬ সালে মেটার মোট ব্যয়ের পরিমাণ ১৬২ বিলিয়ন থেকে ১৬৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বিশাল খরচের বোঝা সামলাতেই কর্মীদের ওপর কোপ পড়ছে। সংস্থাটি বর্তমানে শীর্ষস্থানীয় এআই বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করতে লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করছে, যার ফলে পুরনো বা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া পদগুলি বিলুপ্ত করা হচ্ছে।
কারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন? প্রতিবেদন অনুসারে, ছাঁটাইয়ের আগে ‘রিয়েলিটি ল্যাবস’ বিভাগের কিছু কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছিল। তবে মেটার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরাসরি ছাঁটাই না করে অনেককে অন্য বিভাগে বা পদে বদলি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা নিয়মিতভাবে দলের কাঠামো পরিবর্তন করে থাকি। যাদের পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের জন্য আমরা বিকল্প সুযোগ খোঁজার চেষ্টা করছি।”
পূর্বের ইতিহাস: এটিই প্রথম নয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও এআই-ভিত্তিক পরিধানযোগ্য ডিভাইসের দিকে মনোযোগ সরাতে গিয়ে রিয়েলিটি ল্যাবস থেকে ১,৫০০-এর বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছিল মেটা। জুকারবার্গের এই ‘ইয়ার অফ এফিসিয়েন্সি’ বা দক্ষতার বছর যে সাধারণ কর্মীদের জন্য কতটা কঠিন হতে চলেছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।