‘আমরা পাণ্ডব, বিজেপি কৌরব’! পাণ্ডবেশ্বরে দাঁড়িয়ে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সঙ্গে ভোটের তুলনা মমতার

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন স্রেফ ক্ষমতার লড়াই নয়, এ হলো ‘ধর্মযুদ্ধ’। বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে নির্বাচনী জনসভা থেকে এভাবেই সুর চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহাভারতের রূপক টেনে তিনি বলেন, “লড়াইটা পাণ্ডব বনাম কৌরবের। আমরা পাণ্ডব, আর বিজেপি হলো কৌরব। অধর্মের বিনাশ ঘটিয়ে পাণ্ডবদের মতোই জিতবে বাংলা।”

এনআরসি ও ভোটার তালিকা নিয়ে হুঁশিয়ারি: এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আদিবাসী, মতুয়া থেকে শুরু করে সংখ্যালঘু— সকলের নাম কাটার নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে দাবি তাঁর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিজেপি দিল্লি থেকে চলে যাবে অগস্ট-সেপ্টেম্বরেই। যতদিন তৃণমূল সরকার আছে, বাংলায় এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না।”

নির্বাচন কমিশন ও ‘ওয়াশিং মেশিন’ কটাক্ষ: প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকেও বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বিজেপির কথামতো অফিসারদের বদল করা হচ্ছে। কিন্তু তাতে লাভ হবে না, কারণ ভোট দেবেন মানুষ। চরিত্র হারিয়ে ফেললে সব শেষ হয়ে যায়।”

মহিলা ও রামনবমী নিয়ে বার্তা: এদিন সভা থেকে মহিলাদের বিশেষ দায়িত্ব দেন মমতা। তিনি বলেন, “যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। বাইরে থেকে কেউ ছাপ্পা ভোট দিতে এলে জোট বেঁধে রুখে দেবেন।” পাশাপাশি, শুক্রবারের রামনবমী নিয়ে উস্কানিতে পা না দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। তাঁর কথায়, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। শান্তিতে মিছিল করুন, কোনো ষড়যন্ত্রী ফাঁদে পা দেবেন না।”