সমুদ্রে ভারতের দাপট বাড়বে! নির্ধারিত সময়ের আগেই আসছে রাফায়েল মেরিন, কাঁপবে শত্রুদেশ?

ভারত মহাসাগরে লাল ফৌজের দাপট কমাতে এবং জলসীমায় ভারতের সার্বভৌমত্ব আরও নিশ্ছিদ্র করতে বড়সড় খবর এল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) হাতে আসতে চলেছে ঘাতক রাফায়েল মেরিন (Rafale-M) যুদ্ধবিমান। ২০২৮ সালের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই প্রথম দফার বিমানগুলি ভারতের মাটি স্পর্শ করতে পারে।
আগাম আসছে প্রশিক্ষণ জেট: ২০২৫ সালের ২৮শে এপ্রিল ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রায় ৬৩,০০০ কোটি টাকার মেগা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির অধীনে ২৬টি রাফায়েল মেরিন জেট কেনার কথা, যার মধ্যে ২২টি একক আসনের এবং ৪টি দুই আসনের প্রশিক্ষণ বিমান। বিশেষ বিষয় হলো, প্রশিক্ষণ বিমানগুলি ২০২৬ সালেই চলে আসবে, যা ভারতীয় পাইলটদের এই আধুনিক সিস্টেমের সঙ্গে দ্রুত অভ্যস্ত হতে সাহায্য করবে। এগুলি মূলত স্থলভাগ থেকে পরিচালিত হবে এবং কারিগরি কর্মীদের উন্নত এভিওনিক্স ও যুদ্ধ কৌশলের পাঠ দেবে।
রণতরীর শক্তি বৃদ্ধি: এই রাফায়েল মেরিন জেটগুলি সরাসরি মোতায়েন করা হবে ভারতের গর্ব ‘আইএনএস বিক্রান্ত’ এবং ‘আইএনএস বিক্রমাদিত্য’ রণতরীতে। এগুলি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ‘মেটিওর’ মিসাইল এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ‘এক্সোসেট’ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত থাকবে। রুশ-নির্মিত পুরনো মিগ-২৯কে (MiG-29K) বিমানগুলিকে পর্যায়ক্রমে প্রতিস্থাপন করবে এই ফরাসি ফাইটার।
রক্ষণাবেক্ষণে সুবিধা: নৌবাহিনীর জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি যে, এই রাফায়েল জেটগুলির প্রায় ৮০ শতাংশ যন্ত্রাংশ ভারতীয় বায়ুসেনায় (IAF) থাকা রাফায়েলের মতোই। ফলে লজিস্টিক সাপোর্ট এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২৬টি বিমানের সবকটি সরবরাহ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত ও ফ্রান্স। এই দ্রুত সরবরাহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের রণকৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।