টাকা নয়, কিস্তিতে দিতে হবে ছাগলছানা! দেশের এই ‘ছেরি ব্যাঙ্ক’-এর কথা শুনেছেন কখনও?

ব্যাঙ্কে গেলে লোন হিসেবে টাকা বা সোনা পাওয়া তো সাধারণ বিষয়। কিন্তু লোন হিসেবে যদি জ্যান্ত ছাগল পাওয়া যায়? শুনতে অবাক লাগলেও ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলা প্রশাসন ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এমনই এক অভিনব ‘ছেরি ব্যাঙ্ক’ (Cheri Bank) চালু করেছেন। লখনপুর ব্লকের কুনওয়ারপুর গ্রামে শুরু হওয়া এই ব্যাঙ্কের মূল লক্ষ্যই হলো গ্রামীণ মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী বা ‘লাখপতি দিদি’ করে তোলা।

কী এই ‘ছেরি ব্যাঙ্ক’ ও কীভাবে চলে লেনদেন? স্থানীয় ভাষায় ছাগলকে বলা হয় ‘ছেরি’। এই ব্যাঙ্কে কোনো টাকার লেনদেন হয় না, সবটাই ছাগলকে কেন্দ্র করে। গ্রামীণ জীবিকা মিশনের অধীনে কর্মরত মহিলারা এই ব্যাঙ্ক পরিচালনা করেন। নিয়ম অনুযায়ী, মাত্র ৩০০০ টাকা সদস্য ফি জমা দিয়ে একজন দরিদ্র মহিলা লোন হিসেবে চারটি ছাগল নিতে পারবেন। এই টাকার বিনিময়ে ‘পশুসখী’রা আগামী ৪০ মাস ওই চারটি ছাগলের যাবতীয় টিকা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ওষুধের দায়িত্ব নেবেন।

কিস্তি হিসেবে কী দিতে হবে? এই ব্যাঙ্কের কিস্তি দেওয়ার পদ্ধতিটি সবথেকে আকর্ষণীয়। মনে করা হয়, ৪০ মাসে ৪টি ছাগল অন্তত ৩২টি বাচ্চা দেবে। ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, সুবিধাভোগী মহিলাকে কিস্তি হিসেবে ১৬টি ছাগলছানা ব্যাঙ্কে ফেরত দিতে হবে। বাকি ১৬টি ছাগলের মালিক হবেন ওই মহিলাই। অর্থাৎ, সামান্য বিনিয়োগে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ওপর আয়ের সুযোগ থাকছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: জেলা পঞ্চায়েতের সিইও বিনয় আগরওয়াল জানিয়েছেন, ওড়িশার একটি মডেল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সুরগুজায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ থেকে উন্নত জাতের ছাগল আনা হয়েছে এই ব্যাঙ্কের জন্য। ভবিষ্যতে বিদেশের উন্নত প্রজাতিও এখানে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ৩৫টি ছাগল নিয়ে এই কেন্দ্রটি যাত্রা শুরু করলেও, মহিলাদের উৎসাহ দেখে এর পরিধি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।