গড়িয়ার পার্লার কাণ্ডে হাড়হিম করা তথ্য! ৪ বছরের ছোট প্রেমিককে ‘স্বামী’ পরিচয় দিয়েছিলেন বিবাহিতা রূপবাণী?

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার বিউটি পার্লার হত্যাকাণ্ডে যত সময় এগোচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে পরকীয়া, প্রতারণা এবং চরম প্রতিশোধের রোমহর্ষক সব তথ্য। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত রূপবাণী দাস (৪৬) তাঁর চেয়ে চার বছরের ছোট হরিয়ানার প্রেমিক পঙ্কজ নাথের (৪২) কাছে নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে তাঁর সঙ্গেই ঘর বেঁধেছিলেন। এমনকি হরিয়ানায় থাকাকালীন পঙ্কজ তাঁকে সবার কাছে নিজের ‘স্ত্রী’ হিসেবেই পরিচয় দিতেন।
প্রেমের টান ও নিখোঁজ রহস্য: স্থানীয় মহলে ‘পম্পা’ নামে পরিচিত রূপবাণীর দীর্ঘ ১৫ বছরের পুরনো একটি পার্লার ছিল গড়িয়ার নরেন্দ্রপুর এলাকায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ হওয়া হরিয়ানার বাসিন্দা পঙ্কজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, স্বামী ও দুই সন্তানকে ফেলে কয়েকমাস আগে তিনি হরিয়ানা চলে যান। সেই সময় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়েছিল। কিন্তু মাস দুয়েক আগে হঠাৎই রূপবাণী কলকাতায় ফিরে আসেন এবং স্বামীর সঙ্গেই থাকতে শুরু করেন।
কেন এই খুন? তদন্তকারীদের অনুমান, কলকাতায় ফেরার পর থেকেই পঙ্কজকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন রূপবাণী। তাঁর এই ‘ইউ-টার্ন’ মেনে নিতে পারেনি পঙ্কজ। গত মঙ্গলবার দুপুরে রূপবাণীর স্বামী তাঁকে পার্লারে নামিয়ে দিয়ে যাওয়ার পরই সুযোগ বুঝে সেখানে হানা দেয় পঙ্কজ। পার্লারের ভিতর দরজা বন্ধ করে দুজনের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। অভিযোগ, রাগের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রূপবাণীকে কুপিয়ে খুন করে নিজে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে পঙ্কজ। হাসপাতালেও শেষরক্ষা হয়নি কারও।
তদন্তে নয়া মোড়: শুক্রবার পঙ্কজের পরিবার হরিয়ানা থেকে কলকাতায় আসছে। পঙ্কজের ভাইয়ের দাবি, হরিয়ানায় থাকাকালীন রূপবাণীকে নিজের স্ত্রী হিসেবেই জানত তাদের পরিবার। এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পোশাক ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। রূপবাণীর স্বামীর করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানা মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং ফরেন্সিক নমুনা খতিয়ে দেখছে। একটি সাজানো সংসার আর এক নিষিদ্ধ প্রেমের এমন রক্তাক্ত সমাপ্তিতে স্তব্ধ গোটা এলাকা।