পাটুলি শ্যুটআউট: মদ্যপানের আসরেই চলল গুলি, মৃত ১! পুলিশের জালে ৪, এবার সরাসরি রিপোর্ট চাইল ইসিআই!

নির্বাচন দোরগোড়ায়, তার মধ্যেই শহর কলকাতায় রক্তক্ষয়ী শ্যুটআউট। বুধবার গভীর রাতে পাটুলিতে এক যুবকের মৃত্যু এবং অন্য একজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। শহরজুড়ে কড়া নাকা চেকিং এবং নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা নিয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

ঠিক কী ঘটেছিল পাটুলিতে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাতে পাটুলির বাসিন্দা জিৎ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে মদ্যপানের একটি আসর বসেছিল। আসরে উপস্থিত ছিলেন রাহুল দে সহ আরও কয়েকজন। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ হঠাৎই বাড়ির ছাদে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বচসা শুরু হয়। ঝগড়া চরম পর্যায়ে পৌঁছালে কয়েক রাউন্ড গুলি চলে। গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। ঘটনাস্থলেই রাহুল দে (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয় এবং বাড়ির মালিক জিৎ মুখোপাধ্যায় গুরুতর জখম হন।

কমিশনের কড়া অবস্থান: নির্বাচনের আবহে এই ধরনের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। কমিশনের প্রশ্ন, সর্বত্র তল্লাশি চলাকালীন কীভাবে অস্ত্র শহরে ঢুকল এবং কীভাবে তা ব্যবহার করা হল? এর নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে লালবাজারকে।

পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেফতার: ঘটনার পরপরই তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হল দীপ রায়, বিধান ব্যানার্জি, রাজা বনিক এবং জয়ন্ত ঘোষ। ধৃতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আগে একাধিক অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিবাদই খুনের মূল কারণ। জখম জিৎ মুখোপাধ্যায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভোটের মুখে এই ঘটনায় পাটুলি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে, যার জেরে পুলিশি টহলদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।