গ্যাসের দাম থেকে ভোটার তালিকা: জনসভা থেকে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে তুলোধোনা তৃণমূল নেত্রীর!

নির্বাচনের রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বরের জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার সাধারণ মানুষকে বারবার বিপদে ফেলে ‘লাইনে দাঁড় করানোর’ রাজনীতি করছে। নোটবন্দি থেকে শুরু করে কোভিডের সময়ের ভয়াবহ স্মৃতি উসকে দিয়ে মমতা দাবি করেন, কেন্দ্র আবারও কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউনের মতো পরিস্থিতি তৈরির ছক কষছে।

লকডাউন ও জ্বালানি সংকট নিয়ে তোপ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মোদী সরকার সাধারণ মানুষের পকেটে টান মারার পাশাপাশি তাঁদের চলাফেরার অধিকারও কেড়ে নিতে চাইছে। তিনি বলেন, “এবার আবারও এমন বিধিনিষেধের কথা ভাবা হচ্ছে যা কার্যত লকডাউনের সমান। মানুষের হাতে-মুখে তালা লাগানোর চেষ্টা চলছে।” পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি এবং বুকিংয়ের জটিল নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “হঠাৎ গ্যাস ফুরিয়ে গেলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? কেন্দ্র কি তার জবাব দেবে?”

ভোটার তালিকা ও এসআইআর বিতর্ক: এদিন তাঁর বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল ‘ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর (SIR) ইস্যু। নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এখনও সব বুথে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি? তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে ষড়যন্ত্র করে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মমতা স্পষ্ট জানান, “তৃণমূল কংগ্রেস ভোটারদের পাশে আছে। যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের জন্য দল বিনামূল্যে আইনজীবীর ব্যবস্থা করবে যাতে তাঁরা ট্রাইব্যুনালে লড়াই করতে পারেন।”

আইনি লড়াইয়ের হুঙ্কার: মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আন্দোলনের ফলেই অনেক বাদ পড়া নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন, প্রতিটি বুথে গিয়ে সাধারণ মানুষের নথি পরীক্ষা করতে এবং কারও নাম বাদ পড়লে দ্রুত আইনি সাহায্যের ব্যবস্থা করতে। নির্বাচনের ঠিক আগে জ্বালানি সমস্যা এবং কেন্দ্রীয় নীতিকে হাতিয়ার করে মোদী বিরোধী হাওয়াকে আরও উসকে দিলেন তৃণমূল নেত্রী।