ব্রাত্যর অভিযোগ ওড়ালেন শমীক! এসআইআর নিয়ে তৃণমূলকে পাল্টা ‘লজিক’ শেখালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ চড়ছে। এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুরকে নিশানা করে কামানের গোলা দাগলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে শমীক সাফ জানিয়ে দিলেন, “ভবানীপুরে মমতার গল্প শেষ!” তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে বলেই বিজেপি এই আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।
এসআইআর (SIR) ইস্যুতে কড়া জবাব: নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের তোলা কারচুপির অভিযোগকে এদিন স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন শমীক। তিনি যুক্তি দিয়ে বোঝান যে, তৃণমূল হারের ভয়েই এখন সাংবিধানিক সংস্থাগুলির ওপর দোষ চাপাচ্ছে। শমীকের কথায়, “তৃণমূল যখনই বুঝতে পারে তারা হারছে, তখনই ইভিএম বা নির্বাচন কমিশনের ওপর দায় চাপাতে শুরু করে। এসআইআর নিয়ে ব্রাত্য বসুরা যা বলছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই।” তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনতেই এই প্রক্রিয়া জরুরি।
ব্রাত্য বসুর অভিযোগের পাল্টা: শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, কমিশন বিজেপির প্রেসক্রিপশনে কাজ করছে। সেই অভিযোগের জবাবে শমীক বলেন, “ব্রাত্যবাবু বড় বড় কথা না বলে আয়নায় নিজেদের মুখ দেখুন। বাংলার মানুষ মনস্থির করে ফেলেছে। ভবানীপুর থেকে পাহাড়— সর্বত্রই পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।”
বিজেপির লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ: শমীক ভট্টাচার্য এদিন আত্মবিশ্বাসের সুরে দাবি করেন যে, বিগত নির্বাচনগুলোতে ভবানীপুরে বিজেপির লিড প্রমাণ করে দিয়েছে যে মানুষ আর তৃণমূলের সাথে নেই। সরকারি কর্মীদের ডিএ থেকে শুরু করে বেকারত্ব এবং দুর্নীতি— সব মিলিয়ে শাসকদল কোণঠাসা। নির্বাচনের আগে রাজ্যজুড়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঝোড়ো সফর এবং শমীকের এই ঝাঁঝালো আক্রমণ তৃণমূলের অস্বস্তি যে বাড়াবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।