মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ: সর্বদল বৈঠকে তুলকালাম, পাকিস্তানের ‘চাল’ নিয়ে বিস্ফোরক বিরোধীরা!

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার ত্রিমুখী সংঘাতে উত্তপ্ত গোটা বিশ্ব। এমন এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে দেশের রণকৌশল এবং অবস্থান স্পষ্ট করতে বুধবার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ, এস জয়শঙ্কর এবং কিরেণ রিজিজুর মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক এই সংকটের আবহেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফাটল ধরাল তৃণমূল কংগ্রেসের অনুপস্থিতি। অন্যদিকে, বৈঠকে পাকিস্তানের রহস্যময় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোদী সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করল বিরোধী শিবির।

বৈঠক শেষে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সংবাদমাধ্যমকে জানান, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের একতা প্রদর্শনই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, “বিরোধীরা যে সমস্ত প্রশ্ন তুলেছিলেন, সরকার অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে তার উত্তর দিয়েছে।” অধিকাংশ বিরোধী দলই জাতীয় স্বার্থে সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও, তৃণমূল কংগ্রেসের অনুপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এই বৈঠককে কটাক্ষ করে জানান, বিজেপি নিজেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার, তাদের ডাকা বৈঠকের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তবে বৈঠকের অন্দরে সবচেয়ে বড় ঝড় ওঠে পাকিস্তানকে নিয়ে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে পাকিস্তান যেভাবে ‘মধ্যস্থতাকারী’ সাজার চেষ্টা করছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী সাংসদরা। এর জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি পাকিস্তানের নতুন কোনো কৌশল নয়; এর আগেও ১৯৮১ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সময় তারা একই ধরনের ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ভারত সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং কূটনৈতিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম ও সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে দানা বেঁধেছে আতঙ্ক। এই প্রসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদ্বীপ সিং পুরি বৈঠকে স্পষ্ট করেন যে, দেশে জ্বালানির কোনো অভাব নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সংকটের যে খবর রটানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ গুজব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই সংসদে সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। সংকটের এই মুহূর্তে দেশবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেই আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র।