ইরানকে কি মানচিত্র থেকে মুছে ফেলবেন ট্রাম্প? সৌদির যুবরাজকে ‘যোদ্ধা’ তকমা দিয়ে বড় চাল আমেরিকার!

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে পারদ এখন ফুটন্ত বিন্দুতে। ইরানের সঙ্গে চলা তীব্র সংঘাতের মাঝেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। বুধবার আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমনকে (MBS) সরাসরি ‘ওয়ারিয়র’ বা ‘যোদ্ধা’ আখ্যা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরানের বিরুদ্ধে এবার চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামতে চলেছে ওয়াশিংটন-রিয়াদ জোট।
কেন সলমনকে ‘যোদ্ধা’ বললেন ট্রাম্প? বুধবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, “মহম্মদ বিন সলমন একজন সত্যিকারের যোদ্ধা। তিনি আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন।” শুধু সৌদি আরব নয়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কাতারকেও দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন তিনি। এমনকি ‘ভুলবশত’ তিনটি আমেরিকান ফাইটার জেট গুলি করে নামানোর পরেও কুয়েতের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে মিত্রদের চটানোর কোনও ঝুঁকি তিনি নেবেন না।
পর্দার আড়ালে কি বড় কোনও ছক? আন্তর্জাতিক মহলের গুঞ্জন, পর্দার আড়ালে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন সৌদির শাহজাদা। তাঁর মতে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ইরান এক দীর্ঘমেয়াদী বিষফোঁড়া। আর এই যুদ্ধের সুযোগেই সেই বিপদকে সমূলে উপড়ে ফেলতে চাইছে রিয়াদ।
পরবর্তী টার্গেট কি ‘খার্গ দ্বীপ’? সামরিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমেরিকা ও আরব দেশগুলো মিলে এবার ইরানের অর্থনীতির শিরদাঁড়া ভেঙে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে।
-
নিশানায় খার্গ দ্বীপ: ইরানের তেল ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ (Kharg Island)-এ বড়সড় হামলার ছক কষা হচ্ছে।
-
আকাশ ও জলপথে ঘেরাও: ইজরায়েল ও আরব জোটের সঙ্গে মিলে জল ও আকাশপথে এই দ্বীপে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন ফৌজ।
যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী? কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের এই ‘মিত্র প্রীতি’ আসলে এক বৃহত্তর যুদ্ধের পূর্বাভাস। যদি সত্যিই খার্গ দ্বীপে হামলা চালানো হয়, তবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পাশাপাশি শুরু হতে পারে এক দীর্ঘস্থায়ী মহাযুদ্ধ।