মুখ্যসচিব-স্বরাষ্ট্রসচিব বদলি কি বেআইনি? কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম নির্বাচন কমিশন; উত্তপ্ত কলকাতা হাইকোর্ট

লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) আধিকারিকদের গণ-বদলি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জোরদার সওয়াল-জবাব চলল। বুধবার এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন যে কোনও আধিকারিককে বদলি করার অসীম ক্ষমতা ভোগ করে এবং এর জন্য তারা কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়।
কমিশনের যুক্তি: কমিশনের আইনজীবী জানান, সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকর কমিশনকে প্রভূত ক্ষমতা দিয়ে গিয়েছেন। নির্বাচন ঘোষণা থেকে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত কমিশন রাজ্য ও কেন্দ্রের যে কোনও কর্মীকে বদলি করতে পারে। এমনকি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদে বিভিন্ন দফতরের নিয়ন্ত্রণও নিজের হাতে নিতে পারে। ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের একটি নির্দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনই শেষ কথা। আধিকারিক বদল করার জন্য কমিশনকে কোনও কারণ দর্শাতে হয় না।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা তোপ: মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এই ‘অসীম ক্ষমতা’র তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ৬ মে পর্যন্ত ক্ষমতায় রয়েছেন। আলোচনা না করে যদি প্রতিদিন ৬০-৭০ জন করে রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে রাজ্যের জরুরি কাজগুলি কারা সামলাবে?” তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, শুধু নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ হলেই চলবে না, সবাইকে নিরপেক্ষ হতে হবে।
মামলার প্রেক্ষাপট: গত ১৫ মার্চ রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণার রাতেই মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে সরিয়ে দেয় কমিশন। এরপর বহু গুরুত্বপূর্ণ অফিসারকে অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরই প্রতিবাদে অর্ক নাগ নামে এক আইনজীবী জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায়।