সিলিন্ডার বুকিংয়ে কি ৩৫ দিনের নিয়ম? বিভ্রান্তি তুঙ্গে! এলপিজি জোগান নিয়ে বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ভারতে রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগান নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। একদিকে গ্যাস ডিলাররা দাবি করছেন যে সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩৫ দিন করা হয়েছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার এই দাবিকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছে। বুধবার এই ইস্যুতে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এলপিজি বুকিংয়ের নিয়মে কোনও রদবদল করা হয়নি।

বিভ্রান্তির মূলে কী? এদিন সকাল থেকেই খবর ছড়ায় যে, ডবল সিলিন্ডার গ্রাহকদের ক্ষেত্রে একটি সিলিন্ডার নেওয়ার ৩৫ দিন পর দ্বিতীয়টি বুক করা যাবে। গ্যাস ডিলার সংগঠনের নেতা বিজন বিহারী বিশ্বাস জানান, তেল বিপণন সংস্থাগুলি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে এই নতুন ব্যবধানের কথা জানিয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বুকিংয়ের হার একলাফে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ডেলিভারি বয়দের দাবি, স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি বুকিং হচ্ছে এখন।

কেন্দ্রের স্পষ্টীকরণ: কেন্দ্রীয় সরকার সাফ জানিয়েছে যে বুকিংয়ের পুরনো নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, শহরের ক্ষেত্রে ২৫ দিন এবং গ্রামের ক্ষেত্রে ৪৫ দিনের ব্যবধানই কার্যকর রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, এই মুহূর্তে দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার বুক করার কোনও প্রয়োজন নেই।

জ্বালানি আসছে সাগরপথে: জোগান নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর করতে সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ৫টি বড় জাহাজ ২.৩ লক্ষ টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ প্রণালীতে ভারতের পথে রয়েছে। আরও দুটি জাহাজ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ভারতের বন্দরে পৌঁছাবে। ফলে গ্যাসের আকাল হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

কালোবাজারি রুখতে কড়া দাওয়াই: সরকার সতর্ক করেছে যে, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যেন গ্যাস মজুত বা কালোবাজারি না করে। ব্ল্যাক মার্কেটিং রুখতে প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে কোনওরকম গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।