ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ আতঙ্ক! মোদীর ডাকা বৈঠক বয়কট তৃণমূলের, তুঙ্গে সংঘাত!

একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ, অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম পারদ পতন। মধ্যপ্রাচ্যের টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার কেন্দ্র সরকারের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠক (All-Party Meeting) বয়কট করল তৃণমূল কংগ্রেস। যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

বৈঠকে ছিলেন হেভিওয়েটরা, গরহাজির টিএমসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর উপস্থিতিতে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট ধরে চলে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মুকুল ওয়াসনিক ও তারিক আনোয়ার এবং সিপিআই(এম)-এর জন ব্রিটাস উপস্থিত থাকলেও, তৃণমূলের আসন ছিল শূন্য।

তৃণমূলের তোপ: কেন এই বয়কট? বৈঠকে যোগ না দেওয়া নিয়ে তৃণমূল নেত্রী সাগরিকা ঘোষ সরাসরি মোদী সরকারকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ:

  • সংসদে বিরোধী সাংসদদের ‘পয়েন্ট অফ অর্ডার’ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

  • পশ্চিম এশিয়া সঙ্কট ও এলপিজি নিয়ে বিরোধীদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।

  • সংসদ কক্ষ ছেড়ে কেন কনফারেন্স রুমে এই আলোচনা? সাগরিকার প্রশ্ন, “সরকার আর কতদিন জবাবদিহি এড়াবে?”

অন্যদিকে, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “সবাই এখন ব্যস্ত। আমন্ত্রণের বিষয়ে কিছু জানি না।”

জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় আশ্বাস সরকারের যুদ্ধ লাগলে কি ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের আকাল পড়বে? এই আশঙ্কার জবাবে সরকার জানিয়েছে, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।

  • পর্যাপ্ত জোগান: দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে ৪টি বড় তেলের জাহাজ ভারতে পৌঁছাবে।

  • বিকল্প পথ: হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগের মাঝেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক দেশের সঙ্গে কথা বলছে কেন্দ্র।

  • পাকিস্তানের ভূমিকা: বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সরকার সাফ জানায়, ১৯৮১ সাল থেকেই তারা নেতিবাচক কাজ করছে, এতে নতুন কিছু নেই।

 যুদ্ধের আবহে যখন জাতীয় ঐক্য কাম্য, তখন তৃণমূলের এই অনুপস্থিতি দিল্লির রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিল। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রী জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।