তেল সংকটে ভারতের মেগা মাস্টারস্ট্রোক! দ্বিগুণ আমদানির পথে দিল্লি, আমেরকি দিচ্ছে বিশেষ ছাড়?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন বিশ্ববাজারের সরবরাহ শৃঙ্খলকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে, তখন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লি। হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার জেরে অপরিশোধিত তেলের জোগানে টান পড়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা রুখতে ফের রাশিয়ার শরণাপন্ন হলো ভারত। আগামী মাসের জন্য রেকর্ড ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি) ব্যারেল রুশ তেল কেনার বরাত দিয়েছে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি।
আমদানির পরিমাণ একলাফে দ্বিগুণ: পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমান মাসের তুলনায় আগামী মাসে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। মূলত ইরাক ও সৌদি আরব থেকে আসা তেলের কার্গোগুলি পারস্য উপসাগরে আটকে পড়ায় বিপাকে পড়েছিল ভারতীয় শোধনাগারগুলি। এই ঘাটতি মেটাতে ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি এবং হিন্দুস্তান মিত্তল এনার্জি লিমিটেডের মতো বড় সংস্থাগুলি দীর্ঘ বিরতির পর ফের বিপুল পরিমাণে রুশ তেল কেনা শুরু করেছে।
আমেরিকার ছাড় ও কূটনৈতিক জয়: ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত এক বিশেষ ছাড় পেয়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ১২ মার্চের মধ্যে যে সমস্ত রুশ তেলের কার্গো জাহাজে লোড করা হয়েছে, তা নিতে ভারতের কোনও বাধা নেই। দিল্লির আধিকারিকদের মতে, যতক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা কাটছে না, ততক্ষণ এই কূটনৈতিক নমনীয়তা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎস বহুমুখী করার চেষ্টা: শুধু রাশিয়া নয়, ভারত তার আমদানির উৎস আরও বাড়াচ্ছে। এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ ব্যারেল তেল আসার কথা রয়েছে, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি টেক্সাস থেকে এলপিজি (LPG) ভর্তি জাহাজ ইতিমধ্যেই নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরে থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজ এবং ৬১১ জন নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন। পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে এবং আমদানি সহজ করতে নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে শুল্ক মকুবের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।