“বিশ্বের সেরা গদ্দার মমতা!” ভবানীপুরে দিদিমণি থেকে ‘দিদিমা’ বানিয়ে দেওয়ার হুঙ্কার শুভেন্দুর

নন্দীগ্রামের সেই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের স্মৃতি উসকে এবার ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যুদস্ত করার খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডলের সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে স্বমেজাজে ধরা দিলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর সাফ কথা, “গতবার নন্দীগ্রামে হারিয়েছিলাম, এবার ভবানীপুরে আপনাকে হারাবই।” শুধু হারানোই নয়, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি একাই ১৭৭টি আসন দখল করবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।
SIR লিস্ট নিয়ে শ্লেষ: “ডিনার এখনও বাকি” এদিন এসআইআর (SIR) সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে এক অভিনব এবং তীক্ষ্ণ রূপক ব্যবহার করেন শুভেন্দু। তৃণমূলের উদ্বেগ বাড়িয়ে তিনি বলেন, “ব্রেকফাস্টে ৫৮ লাখ আর লাঞ্চে ৬০ লাখের নাম বাদ গেছে। বিকেলের লিকার চা আর চিনা বাদামের সঙ্গে আরও ১৪ লাখ কাটা পড়েছে। মনে রাখবেন, ডিনার এখনও বাকি আছে! সেখানে আরও ২৮ লক্ষের নাম যাবে।” শুভেন্দুর এই গাণিতিক কটাক্ষ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
‘গদ্দার’ বিতর্ক ও ভবানীপুরের RO: ভবানীপুরের নতুন রিটার্নিং অফিসার (RO) সুরজিৎ রায়ের নিয়োগ নিয়ে তৃণমূলের আপত্তির কড়া জবাব দিয়েছেন শুভেন্দু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুরজিৎ রায়কে ‘গদ্দারের ঘনিষ্ঠ’ বলে কটাক্ষ করায় পাল্টা তোপ দেগে শুভেন্দু বলেন, “পৃথিবীর সবথেকে বড় গদ্দারের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁরাই তাঁকে রাজনীতিতে পরিচয় দিয়েছেন—রাজীব গান্ধী থেকে সুব্রত মুখোপাধ্যায়, কিম্বা আশ্রয় দেওয়া অটল বিহারী বাজপেয়ী—সবার সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন উনি।”
“দিদি থেকে দিদিমা হয়ে যেতেন”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শুভেন্দু দাবি করেন, তৃণমূল নেত্রী নিজের যোগ্যতায় নয়, বরং নন্দীগ্রামের মানুষের আত্মবলিদানের ওপর ভর করে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। শ্লেষের সুরে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রাম না থাকলে দিদি থেকে দিদিমা হয়ে যেতেন, রাজনীতি করা বেরিয়ে যেত।” পটাশপুর ও রামনগরের জনসভায় শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করে দিয়েছে বলে দাবি করছে বিজেপি।