৩০ কিমি ব্যাপী অনন্তের হাতছানি! কচ্ছের রণে লুকানো ‘স্বর্গের রাস্তা’, এর সৌন্দর্য দেখে স্তম্ভিত পর্যটকরা

রূপকথার গল্পে স্বর্গের সিঁড়ির কথা আমরা অনেকেই শুনেছি। কিন্তু বাস্তবের মাটিতেও যে স্বর্গের পথ থাকতে পারে, তা গুজরাটের এই রাস্তাটি না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ভারতের মানচিত্রেই লুকিয়ে আছে এমন এক পথ, যা পর্যটকদের কাছে ‘রোড টু হেভেন’ (Road to Heaven) নামে পরিচিত। দিগন্তজোড়া সাদা নুনের মরুভূমি আর তার মাঝখান দিয়ে চিরে যাওয়া কালো পিচঢালা রাস্তা— এই দৃশ্য দেখলে মনে হবে পথটি যেন সরাসরি মিশেছে অনন্ত আকাশে।
অনন্তের পথে যাত্রা: এই রাস্তাটির বিশেষত্ব হলো এর গঠন। ধূ ধূ করা সাদা লবণের প্লাবন ভূমির ওপর মাটি উঁচু করে তৈরি করা হয়েছে এই হাইওয়ে। রাস্তার দু-ধারে ঢালু হয়ে নেমে গেছে কাঁচা মাটির স্তর, যা মিশেছে সাদা লবণের গালিচায়। যতদূর চোখ যায়, কেবল সাদা প্রান্তর আর তার বুক চিরে চলে যাওয়া নিকষ কালো পথ। গাড়িতে যাওয়ার সময় মনে হয় আপনি কোনো এক স্বপ্নপুরীর দিকে এগিয়ে চলেছেন যেখানে আকাশ আর মাটি একাকার হয়ে গেছে।
ধোলাভিরা থেকে ভুজ: ইতিহাসের ছোঁয়া গুজরাটের কচ্ছের রণের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি মূলত ভুজ এবং ধোলাভিরাকে যুক্ত করেছে। ধোলাভিরা, যা প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার এক অন্যতম নিদর্শন, সেখানে যাওয়ার পথেই পড়ে এই মোহময়ী রাস্তা। প্রতি বছর কয়েক লক্ষ পর্যটক কেবল এই রাস্তার টানেই এখানে ভিড় জমান। বিশেষ করে ‘রণ উৎসব’-এর সময় এই পথের সৌন্দর্য কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
কেন এই পথ পর্যটকদের প্রিয়? রাস্তার দু-পাশে লবণের ওপর যখন আকাশের প্রতিচ্ছবি পড়ে, তখন মনে হয় এক বিশাল আয়নার ওপর দিয়ে গাড়ি চলছে। কোথাও কোথাও লবণের স্তরের ওপর হালকা জল জমে থাকায় এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। পর্যটকরা এখানে এসে গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলতে ভোলেন না। এটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং আর প্রকৃতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হন এবং ভারতের অদেখা সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তবে এই ‘রোড টু হেভেন’ আপনার তালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত।