প্রধান বিচারপতির ভাইকে ফোন! রায়ের কৈফিয়ত চাইল মামলাকারী? সুপ্রিম কোর্টে নজিরবিহীন বিস্ফোরণ

ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল সুপ্রিম কোর্ট। সরাসরি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের (CJI Surya Kant) পরিবারের সদস্যকে ফোন করে আদালতের রায়ের কৈফিয়ত চাওয়ার ধৃষ্টতা দেখাল এক মামলাকারী পরিবার। বুধবার একটি মেডিক্যাল ভর্তি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেন স্বয়ং প্রধান বিচারপতি। ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।

বিচারপতির ভাইকে ফোন, তীব্র ভর্ৎসনা আদালতের: শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি জানান, সম্প্রতি এক ব্যক্তি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিচারপতির দেওয়া একটি আদেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত কড়া সুরে বলেন, “কারো এত সাহস যে আমার ভাইকে ফোন করে জানতে চাইছে আমি কীভাবে এই রায় দিলাম? কেন ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে না?” হরিয়ানা সরকারের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “সে কি আমাকে নির্দেশ দেবে আমি কীভাবে রায় দেব? বিষয়টি খতিয়ে দেখুন।” তিনি আরও যোগ করেন, “সে যদি দেশের বাইরে গিয়েও লুকিয়ে থাকে, আমি জানি কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়। গত ২৩ বছর ধরে আমি এই ধরনের পরিস্থিতি সামলাচ্ছি।”

ধর্মবদল করে ডাক্তারি পাসের ‘ফন্দি’: এই গোটা উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সূত্রপাত একটি মেডিক্যাল ভর্তি সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে। নিখিল কুমার পুনিয়া ও একতা পুনিয়া নামের দুই আবেদনকারী বৌদ্ধ সংখ্যালঘু কোটা ব্যবহার করে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির দাবি জানান। জানা গেছে, তাঁরা আগে জেনারেল বা সাধারণ শ্রেণিতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ভর্তির ঠিক আগে হঠাৎ নিজেদের বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত দাবি করে সংখ্যালঘু কোটার সুবিধা নিতে চান। উত্তরপ্রদেশের সুভারতী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির এই প্রক্রিয়া নিয়ে স্থগিতাদেশ দেয় রাজ্য সরকার, যার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল।

‘এটি এক নতুন ধরনের প্রতারণা’: মামলাটি খতিয়ে দেখে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি বাগচি তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন। প্রধান বিচারপতি সরাসরি বলেন, “এটি এক নতুন ধরনের প্রতারণা। আমাদের আরও কিছু বলতে বাধ্য করবেন না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুনিয়া জাট সম্প্রদায়ের মতো একটি পরিবার কীভাবে হঠাৎ করে পরীক্ষার ঠিক আগে সংখ্যালঘু সার্টিফিকেট পেয়ে গেল? সহ-বিচারপতি বাগচিও টিপ্পনী কেটে বলেন, “পরীক্ষার ঠিক আগেই হঠাৎ বৌদ্ধ হয়ে গেল?” আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, স্রেফ সংরক্ষণের সুবিধা নিতে এই ধর্মান্তরের বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক।